রোহিত শর্মার স্ত্রীর কারণে মরতে বসেছিলেন নাফিস ইকবাল

অন্যান্য খবর ফিচার

ক্রিকেটার না হয়ে উপস্থাপক হলেও বোধহয় বাজিমাত করতে পারতেন তামিম। তার প্রমান কিছুদিন আগে ভক্তরা পেয়েছেন। দেশি-বিদেশি, সাবেক-বর্তমানের অনেক ক্রিকেটারদের নিয়ে করেছেন লাইভ শো। তামিমের এক শোতে হাজির হয়েছিলেন ‘হিটম্যান’ খ্যাত ভারতীয় ওপেনার রহিত শর্মা। দুই ওপেনারের এই আড্ডাতে অন্যসব প্রসঙ্গের মতো উঠে এসেছে মজার এক ঘটনা।

ঘটনাটি ঘটেছে তামিমের বড় ভাই নাফিস ইকবালের সঙ্গে আইপিএল চলাকালীন সময়। ক্রিকেটের অনুশীলনে বল থ্রোয়ারদের নিয়ে কথা বলার সময় হঠাৎ করে নাফিস ইকবালের প্রসঙ্গে এসে পড়েন তাঁরা। তখনই রোহিত শর্মা বলে উঠেন, ‘আমি তার কথা জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিলাম। উনি আমাদের সঙ্গে গত আইপিএলের আগেরবার ছিলেন। যখন মোস্তাফিজুর ছিল দলে। তাকে আমার শুভকামনা জানিও।’

তিনি আরো জানালেন, মজার এক কারণে তাঁর স্ত্রী ঋতিকা সাজদেহ তামিমের ভাইকে এখনো মনে রেখেছেন। এরপর নিজেই সেই ঘটনাটি সবাইকে খুলে বললেন রোহিত।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে এই আড্ডার কথা বলেছিলাম, সে বলল নাফিস ভাইকে হাই বলতে। তুমি জান তাঁকে কেন মনে রেখেছে সে? কারণ এয়ারপোর্টে নাফিস ভাই তাকে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই দিয়েছিল। তাকে জিজ্ঞেস কর। আমার স্ত্রীকে যেই ফ্রেঞ্চ ফ্রাই দেয়, তাকেই সে খুব পছন্দ করে। সে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ভালোবাসে।’

রোহিতের কথা শেষ হলে, তামিম তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া মজার ঘটনাটি সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেন। মোস্তাফিজের অভিভাবক হিসেবে আইপিএলের ২০১৮ সংস্করণে গিয়েছিলেন নাফিস। সেবার পরিবারের সদস্যদের জন্য রাখা বিশেষ আসনে রোহিতের স্ত্রীর পাশে বসেই খেলা দেখতে হয়েছিল তাঁকে। এরমধ্যে একদিন খেলা দেখতে দেখতে নাফিসের প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়ে বসেছিল। কিন্তু অমঙ্গলের আশংকায় তাঁকে সিট থেকে উঠতেই দেননি ঋতিকা। সেকারণে ঐদিন ক্ষুধায় বেশ কষ্ট পেয়েছিলন তিনি।

তামিমের মতে, ‘আমার ভাই ভাবির (রোহিতের স্ত্রী) সঙ্গে বসে খেলা দেখছিল। তারা পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে বসেছিল। আমার ভাইয়ের ভয়ংকর ক্ষুধা পেয়েছিল, কিছু খেতে চাইছিল। সে চাইছিল কিছু খেয়ে আসতে কিন্তু ভাবী তাকে যেতেই দিচ্ছিল না। তিনি বলছিলেন, “না, এখানেই থাকতে হবে, খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোথাও যাওয়া যাবে না।” আমার ভাই তো ক্ষুধায় মরে যাচ্ছিল।’

তামিমের মুখে এই ঘটনাটি শোনার পর রোহিতও একগাল হেসে জানালেন, এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। তাঁর স্ত্রী বরাবরই কুসংস্কারে বিশ্বাসী।

তাছাড়া এঘটনার পিছনে তাঁদের বন্ধুত্বকেও একটি কারণ হিসেবে দেখিয়ে রোহিত বলেন, ‘হ্যাঁ, সে খুব কুসংস্কারে বিশ্বাস করে। খেলায় কোনো কিছু ভালো চললে, কেউ যদি নির্দিষ্ট কোথাও বসে, তাদের নড়তে দেয় না সে। আমি নিশ্চিত ওই দুই মাসে তাদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। এক সঙ্গে ভ্রমণ করেছে, গ্যালারিতে বসেছে। খুব ভালো সম্পর্ক হয়েছে বলেই সে এভাবে বসে থাকতে বলেছে। কারণ, সম্পর্ক ভালো না হলে কাউকে এভাবে কিছু বললে কি না কি মনে করবে তার তো ঠিক নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *