বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চান বুলবুল পুত্র মাহদি

বাংলাদেশ ক্রিকেট

যেকোনো ফর্ম্যাটে নিজের আন্তর্জাতিক অভিষেকটা রাঙাতে কে-ই বা না চান? তবে পৃথিবীর চরম বাস্তবতা হলো – এখানে স্বপ্ন দেখাটা যত সহজ, সেটাকে বাস্তবায়ন করাটা তত সহজ নয়। যেকারণে শচিন টেন্ডুলকারদের মতো কিংবদন্তিরাও পরবর্তী জীবনের শত সাফল্যের বিনিময়েও সমর্থকদের কাছে নিজের অভিষেক ম্যাচটাকে স্মরণীয় করে তুলতে পারেননি।

তবে ২০০০ সালে নিজের টেস্ট অভিষেকে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান আমিনুল ইসলাম বুলবুল সেই কঠিন ব্যাপারটিকে সম্ভবে পরিণত করেছিলেন প্রথম ইনিংসেই ১৪৫ রানের দুর্দান্ত স্কোর করে। তাছাড়া বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের জন্যও সেই দিনটি বেশ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কেননা সেবারই প্রথম কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলতে নেমেছিল টাইগাররা। সুতরাং প্রথম টেস্টের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিটির মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সঙ্গে নিজের নামটিও ওতোপ্রোতোভাবে জড়িয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছিলেন।

বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের এই মহানায়ক বর্তমানে সপরিবারে থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়। কাজ করছেন আইসিসির ডেভলোপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে। আদরের ছেলে মাহদি ইসলামও পৈতৃক সুত্রে ক্রিকেটটা পেয়ে গিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়াতেই চলছে তার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নপূরণের চেষ্টা। তবে বাবার মতো সেও এখনো নাড়ির টান অনুভব করে। তাই তো সুদূর ওশেনিয়া মহাদেশে থেকেও বাংলাদেশের হয়েই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করতে চায় মাহদি। এনিয়ে একবার দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘প্রথম আলোকে’ সে বলেছিল, ‘আমি অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে উঠেছি বলে এ দেশের কোনো দলের হয়ে খেলা শিখছি। ইংল্যান্ডে থাকলে সেখানে খেলতাম, বাংলাদেশে বাস করলেও সেখানে খেলতাম। আমি কোন দেশের খেলোয়াড়, এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমি কেমন খেলোয়াড়। পরিশ্রম করছি আরো ভালো খেলার জন্য। তবে অবশ্যই বড় হয়ে বাংলাদেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখি।’

অবশ্য দুইবছর আগেই একবার অস্ট্রেলিয়ার অনুর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে জুনিয়র ওয়ার্ল্ড সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সের মধ্যমে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে সাড়া ফেলে দিয়েছিল বুলবুল পুত্র। সেবার অস্ট্রেলিয়াকে শিরোপা জেতানোয় বড় ভূমিকা রেখেছিল অলরাউন্ডার মাহদি। এছাড়াও গোটা টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রানও করেছিল সে।

বাবা বুলবুলও তাই সবসময়ই চান, তাদের হাত ধরে দেশের ক্রিকেটের যে পথযাত্রা শুরু হয়েছিল, ছেলের হাত ধরে সেই যাত্রায় যেন বাংলাদেশ আরো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে পারে। বাংলাদেশকে যে তার ছেলে কতোটা ভালোবাসেন, সেটিও বরাবরই প্রকাশিত হয় তাঁর বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘দেশ ও ক্রিকেটের প্রতি মাহদির ভালোবাসা আমার থেকেও বেশি। ওর খেলা দেখে আমার কৈশোরের কথা মনে পড়ে যায়। ওর সাফল্যই আমার একমাত্র চাওয়া।’

অবশ্য এটি শুধু বুলবুলেরই চাওয়া নয় , বরং বাংলাদেশের কোটি কোটি সমর্থকরাও চাইবেন যাতে ঘরের ছেলে মাহদি ঘরে ফিরে আসুক। উন্নত জীবনের আশায় অনেক ক্রিকেটারই নিজ দেশ ছেড়ে পরের দেশের হয়ে খেলতে চান। কিন্তু বিদেশের বিলাসবহুল সুবিধা ত্যাগ করে দেশের হয়ে কয়জনই বা খেলতে চাইবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *