দুইটি ভিন্ন দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন যে পাঁচ ক্রিকেটার

ক্রিকেট ফিচার

পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাধুলার তালিকায় সবসময়ই ক্রিকেটের নাম উল্লেখ করতে হয়। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এই খেলাটি নিয়মিত খেলে থাকেন। যার মধ্যে একটি মোটা অংশ ক্রিকেটকে নিজেদের পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তবে এতো মানুষের ভিড়ে মাত্র হাজার কয়েক ক্রিকেটারই নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। বাকিদের ক্ষেত্রে জাতীয় দলে খেলতে পারার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যায়।

এদিকে মাঝেমধ্যে কয়েকজনের ভাগ্য এতোটাই ভালো থাকে যে, তারা একটি নয় বরং দুইটি ভিন্ন দেশের জার্সি গায়ে জড়ানোর সুযোগ পেয়ে যান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সেরকম পাঁচ ক্রিকেটারদের নিয়েই আজকের এই আয়োজন।

কিন্তু ২০০৯ সালে তাঁর সামনে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার জন্য একটি দারুণ সুযোগ তৈরি হয় এবং তিনি সেই সুযোগটি লুফে নিয়ে ইংলিশদের হয়ে অভিষিক্ত হন। এরপর সেখানে ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে দুইটি ভিন্ন দেশের হয়ে সেঞ্চুরি গড়ার রেকর্ডটি দখলে নেন তিনি। এদিকে ২০১৪ সালে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার এ্যালিস্টার কুকের বিদায়ের পর তাঁর জায়গায় মরগানকে অধিনায়কত্ব দেওয়া হয়। তাঁর নেতৃত্বেই পরবর্তিতে ২০১৫ সালের অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ ও সবশেষ ঘরের মাটিতে ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলেছে ইংল্যান্ড। এরমধ্যে ২০১৯ বিশ্বকাপে দলকে শিরোপা এনে দিয়ে মরগান ইংল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক হিসেবে ইতিহাস গড়েন। বর্তমানে রঙিন জার্সিতে ইংলিশদের অনেক বড় বড় রেকর্ডই তাঁর দখলে রয়েছে।

বোর্ড ‌‌‌র‌্যানকিন

বোর্ড ‌‌‌র‌্যানকিন হচ্ছেন ক্রিকেট ইতিহাসে এখন পর্যন্ত একমাত্র ক্রিকেটার যিনি কিনা তিনটি ফর্ম্যাটেই দুইটি দেশের হয়ে খেলেছেন। ইয়োন মরগানের মতো আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুটা তিনিও করেছিলেন আয়ারল্যান্ডের হয়ে। এরপর মাঝখানে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার জন্য আয়ারল্যান্ডকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তবে ইংলিশদের হয়ে অভিষিক্ত হলেও দলে কখনোই খুব একটা নিয়মিত হতে পারেননি লম্বাটে এই পেসার।

পরে ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে তিনি আবার মাতৃভূমির হয়ে খেলার ঘোষণা দেন এবং এখন পর্যন্ত আইরিশদের সঙ্গেই খেলছেন। ইংলিশদের হয়ে তিনি একটি টেস্ট, দুইটি টি-টোয়েন্টি ও সাতটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। যেখানে তাঁর মোট উইকেট সংখ্যা মাত্র এগারোটি। তবে মাতৃভূমির হয়ে তিনি মোটামুটি সফল বলা চলে। দুই টেস্ট, ৪৮ টি-টোয়েন্টি ও ৬৮ ওয়ানডেতে মোট ১৫৭টি উইকেট শিকার করেছেন।

লুক রনকি

লুক রনকি ইতিহাসের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ওশেনিয়া মহাদেশের দুইটি দেশের হয়েই খেলেছেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তাঁর ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল ২০০৮ সালে। কিন্তু দেশটির হয়ে মাত্র দুইটি ওয়ানডেতেই খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। সেকারণে ভাগ্যের সন্ধানে পরবর্তিতে নিজের দেশ নিউজিল্যান্ডে ফিরে যান তিনি। দেশে ফেরার পর ২০১৩ সালে কিউইদের হয়ে প্রথমবারের মতো খেলার সুযোগ পান তিনি। এরপর থেকে তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

তখন নিউজিল্যান্ডের হয়ে ধীরে ধীরে ক্যারিয়ার গঠন করতে থাকলেন রনকি। আবার ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর তাঁকেই দলের সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ড। রনকি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪ ম্যাচে ৩৯.৮৭ গড়ে ৩১৯ রান করেন। অন্যদিকে ৮৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ২৩.৬৭ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ১৩৯৭ রান। আর কিউইদের হয়ে খেলা ৩৩ টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচে তিনি ১৭.৯৫ গড়ে ৩৫৯ রান করেছেন।

ডির্ক ন্যানেস

অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া এই বাঁহাতি পেসারও সেসব ক্রিকেটারদেরই একজন যাঁরা দুইটি ভিন্ন দেশের হয়ে খেলেছেন। অবশ্য তালিকার অন্য সবার মতো তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটি খুব বেশি লম্বা নয়। অস্ট্রেলিয়ান-ডাচ এই ক্রিকেটারের টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছিল নেদারল্যান্ডসের হয়ে ২০০৯ সালে।

সেবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটি তিনি ডাচদের হয়েই খেলেছিলেন। একইবছর তিনি মাতৃভূমি অস্ট্রেলিয়ার দলে ফিরে আসেন এবং পরের বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হলুদ রঙা জার্সিতেই খেলেন। এছাড়া ২০১০ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীও ছিলেন তিনি। তবে এর কয়েকদিনের মাথায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ফেলেন তিনি। সেটি তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচও ছিল বটে। ক্যারিয়ারে কখনো টেস্ট খেলার সৌভাগ্য না হলেও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২০০৯ সালে স্কটিশদের বিপক্ষে একটি মাত্র ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন ন্যানেস। অবশ্য টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জগতে তিনি ছিলেন বরাবরই নিয়মিত।

নয়-নয়টি দেশের পনেরোটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বা দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ২০১৪ সালের আগস্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি ২৫০ টি উইকেট শিকার করেছিলেন। যেখানে ফর্ম্যাটটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীদের তালিকায় লাসিথ মালিঙ্গা ও আলফনসো থমাস ছাড়া তাঁর ওপরে কেউ ছিলেন না।

রোইলফ ড্যান দার মর্ভে

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানসবার্গে জন্ম নেওয়া এই অলরাউন্ডার তাঁর ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়েই তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলার শুরু। এর কিছুদিন পর তাঁকে ওয়ানডে দলেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মাত্র একবছরই খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন রোইলফ।

এসময় তিনি ১৩টি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেন। এরপর ৫ বছর দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবারো ফিরে আসার প্রত্যাশা নিয়ে নেদারল্যান্ডসে চলে যান তিনি। বর্তমানে তিনি ডাচ দলের অন্যতম প্রধান তারকা ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *