শুভ জন্মদিন প্রথম ভালবাসা ‘মোহাম্মদ আশরাফুল’

গ্লিটজ ফিচার

বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রথম সুপারস্টার মোহাম্মদ আশরাফুলের ৩৭ তম জন্মবার্ষিকী আজ। ৩৮-এ পা রাখলেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। ১৯৮৪ সালের আজকের এই দিনে (৭ জুলাই) ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। স্পোর্টসজোন-২৪ পরিবারের পক্ষ থেকে টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ানকে রইল জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

ক্রিকেটাঙ্গনে ধূমকেতু হয়ে আশরাফুলের আগমণ। ঢাকার ‘মতিন’ থেতে হয়ে উঠেন ১৬ কোটি মানুষের ‘আশার ফুল’। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আশরাফুলের অভিষেক ২০০১ সালে, ১১ এপ্রিল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে। রঙ্গিন পোশাকে শুরুটা হয়েছিল সাদামাটা। ৬ বলে দুটি চারে ৯ রান করতেই ফেরেন সাজঘরে। বল হাতে ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ১ উইকেট দখলে নেন। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ৩৬ রানে।

তবে সাদা পোশাকে অভিষেকে নিজের প্রথম ম্যাচেই রেকর্ড গড়েন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম টেস্ট ম্যাচে সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েন তিনি। খেলেছিলেন ১১৪ রানের ইনিংস।

এরপর তার হাত ধরে অগনিত সাফল্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়া বধের কাব্য আশরাফুলের রচনা। ২০০৭ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর নায়ক আশরাফুল।

টি-টোয়েন্টিতে আশরাফুলের যাত্রা শুরু ২০০৭ সালে। কেনিয়ার বিপক্ষে ২০ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৩৬ রান করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশ জয় পেয়েছিল ৫ উইকেটে (১৪ বল হাতে রেখেই)। ওই বছরই আশরাফুলের নেতৃত্বে থাকা বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হারিয়েছিল। এছাড়া ছোট-বড় অনেক সাফল্যই আছে যা আশরাফুলকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ধ্রুবতারার জায়গাটি দিয়েছে।

জাতীয় দলের হয়ে একদিনের ক্রিকেটে খেলেছেন ১৭৭টি ম্যাচ। ২২.২৩ গড়ে করেছেন ৩৪৬৮ রান। তিনটি সেঞ্চুরির সঙ্গে রয়েছে ২০টি হাফ সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ ১০৯ রানের ইনিংস রয়েছে তার নামের পাশে।

বাংলাদেশের হয়ে ৬১টি টেস্ট খেলেছেন আশরাফুল। ২৪.০০ গড়ে করেছেন ২৭৩৭ রান। ৬টি সেঞ্চুরির সঙ্গে ৮টি হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। টেস্টে সর্বোচ্চ ১৯০ রানের ইনিংস রয়েছে তার।

জাতীয় দলের জার্সিতে ২৩টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন আশরাফুল। ১৯.৫৬ গড়ে নামের পাশে জমা করেছেন ৪৫০ রান। টি-টোয়েন্টিতে দুটি ফিফটি করেছেন। সর্বোচ্চ ৬৫ রানের ইনিংস খেলেছেন ‘অ্যাশ’।

এ ছাড়া বল হাতে টেস্টে ২১, ওয়ানডেতে ১৮ এবং টি-টোয়েন্টিতে ৮ উইকেট নিয়েছেন ডানহাতি এ অফস্পিনার।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএলে) ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন আশরাফুল। এই অভিযোগ তিনি স্বীকার করেন। জাতির কাছে ক্ষমা চান। পরে আশরাফুলকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারও ক্রিকেটে ফেরেন। তবে জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন এখনও। কিন্তু এখনই হাল ছাড়ছেন না আশরাফুল। ৪০ বছর পর্যন্ত জাতীয় দলে খেলতে লড়ে যেতে চান তিনি।

আশরাফুলের সংক্ষিপ্ত খেলোয়াড় জীবন:

• ২০০১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আশরাফুল কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরির করার রেকর্ড করেন।

• ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে আশরাফুলের ওয়ানডে অভিষেক হয়।

• ২০০৫ সালের ক্রিকেট পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্মরণীয় জয়ে আশরাফুল ১০০ রান করেন।

• ২০০৭ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ২৪ গড়ে ২১৬ রান করে আশরাফুল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান স্কোরার হন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নায়কোচিত ইনিংস উপহার দেন অ্যাশ।

• ২০০৭ বিশ্বকাপের পর তিনি শাহরিয়ার নাফিসের স্থলে দলের সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হন। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজের পর তাকে টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে দলের অধিনায়ক নির্বাচিত করা হয়।

• আশরাফুলই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসে দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম অধিনায়ক।

• টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে আশরাফুলের অভিষেক হয় ২০০৭ সালে।

• আশরাফুল ২০০৯ সালে ভারতের আইপিএল টুর্নামেন্টে মু্ম্বাই ইন্ডিয়ানসের পক্ষে একটি মাত্র ম্যাচ খেলেন।

• বিপিএলে দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি হাঁকান আশরাফুল।

• ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১৯৪ রান করেন আশরাফুল। যা ছিল সে সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের টেস্টে সর্বোচ্চ রান। অবশ্য ওই টেস্টে মুশফিক প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ নেন।

• এরপর ফিক্সিং কান্ডে জড়িয়ে পাঁচ বছরের জন্যে নিষিদ্ধ হন আশরাফুল। আর ২০১৮ সালের ১৩ আগস্ট নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হন।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *