ক্রিকেট ইতিহাসের সবথেকে স্বার্থপর ১০ ক্রিকেটার!

ফিচার

মানুষ স্বভাবতই উচ্চাভিলাষী। তার চাহিদার কোনো কমতি নেই। যেকোনো সময়ে, যেকোনো পরিবেশে, যেভাবেই হোক সে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে চায়। সেজন্য প্রয়োজনে সে নিজের নীতিনৈতিকতাকে জলাঞ্জলি দিতেও কোনোরকম দ্বিধাবোধ করে না। এভাবে ক্রমশই সে হয়ে ওঠে আরো ভয়ঙ্কর, আরো স্বার্থপর। নিজ স্বার্থে তখন সে যেকোনো পর্যায়ে নেমে যেতে পারে। ঘটিয়ে ফেলতে পারে যেকোনো অঘটন। উইলিয়াম ই গ্ল্যাডস্টোন তাই যথার্থই বলেছিলেন, ‘স্বার্থপরতা হলো মানব জাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ অভিশাপ।’

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য হচ্ছে, আজকাল খুব কম জায়গাতেই পরার্থপর ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়া যায়। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে অফিস-আদালত, কোথায় কোনো স্বার্থপর ব্যক্তি নেই? এমনকি ক্রীড়াঙ্গনেও এমন অনেক খেলোয়াড়দের খুঁজে পাওয়া যাবে, যাঁরা তাঁদের দলের চাইতে নিজের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গঠনেই বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন। আর তাই ক্রিকেট ইতিহাসের তেমনি ১০ স্বার্থপর চরিত্রকে নিয়েই রইলো আজকের প্রতিবেদন।

শচিন টেন্ডুলকার

এমন কোনো ব্যাটিং রেকর্ড খুঁজে পাওয়াটা কষ্টকর হবে, যেটির তালিকায় শচিন রমেশ টেন্ডুলকারের নাম নেই। ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক শচিন, খেলোয়াড়ি জীবনে সবুজ পটভূমিতে একের পর এক কিংবদন্তি গাঁথা রচনা করেছেন। নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রিকেটারদের কাতারে। তা সত্ত্বেও তাঁকে নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। বিশেষত ভারতীয় দলের তৎকালীন ক্রিকেটারদের অনেকে তাঁর প্রতি কিছুটা বিরক্ত ছিলেন। কেননা তিনি নাকি খেলার সময় নিজের সুবিধার দিকটিই বড় করে দেখতেন।

অবশ্য অবসরের পর সেসব ঘটনার অনেকগুলোই কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। তবে কষ্ট করে ঘাটাঘাটি করলে কিছুকিছু গল্প এখনো শুনতে পাওয়া যায়। এই যেমন, বাংলাদেশের বিপক্ষে তাঁর ক্যারিয়ারের শততম সেঞ্চুরি অর্জনের ম্যাচটির একটি ঘটনাই না হয় বলি। অনেকের মতে, শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নিজের শততম সেঞ্চুরিটি অর্জনের জন্যই তিনি সেদিন টাইগারদের বিপক্ষে এরকম শম্বুক গতির ব্যাটিং করেছিলেন। ফলে শেষ পর্যন্ত ভারতের স্কোরবোর্ডে জমা হয়েছিল ২৮৯ রানের মাঝারি মানের স্কোর। যা পরবর্তিতে তামিম-জহিরুল-সাকিবদের ঝড়ো ইনিংসের সুবাদে খুব সহজেই পার করে ফেলেছিল লাল-সবুজের বাংলাদেশ। এছাড়া ভারতের ফাইনাল খেলার পথেও এই হারটি একটি বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ব্রায়ান লারা

নিঃসন্দেহে ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের তালিকায় বরাবরই ব্রায়ান লারার নাম থাকবে। তবে শচিন টেন্ডুলকারের মতো তিনিও দিনশেষে সমালোচনার উর্ধ্বে ছিলেন না। বিশেষ করে সমালোচকরা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৩৭৫ ও ৪০০* রানের ইনিংসটিকেই তাঁকে ‘স্বার্থপর’ বলে কটুক্তি করার জন্য হাতিয়ার স্বরূপ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ইনিংসে ৪০০ রান সংগ্রহ করার অনন্য মাইলফলকটি ছোঁয়ার স্বার্থেই সেদিন তাঁকে অতিরিক্ত সময় ব্যাটিং করার সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে ক্যারিবিয়ান বোলাররা সেবার ম্যাচটির পরিসমাপ্তি ঘটাতে ব্যর্থ হন এবং পরিশেষে ম্যাচটি অল্পের জন্য ড্র হয়ে যায়।

জেফ্রি বয়কট

নিজের প্রজন্মের জন্য একরকম ব্যাটিং আইডলই ছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার জেফ্রি বয়কট। মানুষ হিসাবেও ছিলেন হাসিখুশি, মিশুক স্বভাবের। কিন্তু তাই বলে নিজের আদর্শে কখনোই নড়চড় হতে দেননি তিনি। এজন্য তাঁকে নিয়ে অনেক সময় দলকে বেশ ভোগান্তিতেও পড়তে হয়েছিল। কারণ তিনি সবসময়ই খুব ধীর গতিতে ব্যাটিং করতেন। না কখনো তাঁকে আগ্রাসী ব্যাটিং করতে দেখা গিয়েছিল আর না কখনো তিনি নিজের এই মনোভাবে পরিবর্তন আনতে রাজি হয়েছিলেন। তাছাড়া দলের জন্য প্রয়োজনীয় মুহূর্তেও তিনি একই ধাঁচে ব্যাটিং করতেন যা সময়ে সময়ে দলের জন্য মহাবিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াত। এমনকি শোনা যায়, একবার ইংলিশ কোচ নাকি ইরান বোথামকে এজন্য আগেভাগে ব্যাটিং করতে পাঠিয়েছিলেন যাতে করে তিনি বয়কটকে রান আউট করে দিতে পারেন এবং তাঁর বদলে অন্যকেউ এসে যাতে পরবর্তিতে দলের রানের পাল্লাটিকে আরো ভারি করে আসতে পারেন।

সুনীল গভাস্কার

অনেকটা জেফ্রি বয়কটের মতো গোটা ক্যারিয়ারে সুনীল গভাস্কারের মনোভাবেও খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায়নি। তিনিও সবসময় খুবই ধীর গতিতে খেলতে পছন্দ করতেন। এমনকি ওয়ানডে ক্রিকেটের প্রচলনের পর সেই ফর্ম্যাটেও টেস্ট ক্রিকেটের ধাঁচেই ব্যাটিং করতে দেখা যেত তাঁকে। তাছাড়া তাঁকে খুব সম্ভবত একদিনই হঠাৎ আক্রমণাত্মক হতে দেখা গিয়েছিল। আর সেদিনই তিনি ১৯৮৭ বিশ্বকাপের এক ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ও একমাত্র ওয়ানডে সেঞ্চুরিটি হাঁকিয়েছিলেন। এদিকে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসের বিরল বিরল লজ্জাজনক রেকর্ডের পাশেও রয়েছে তাঁর নাম। এরমধ্যে ওয়ানডে ক্রিকেটের প্রথম দিককার একটি ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে বলা যায়। সেদিন ভারতের বিপক্ষে তিনশোরও বেশি রান সংগ্রহ করেছিল ইংলিশরা। অথচ পাহাড়সম টার্গেটটি তাড়া করতে নেমে ১৭৫ বল খেলে মাত্র ৩৬ রান করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন গভাস্কার। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের এরকম চরম ভুলের কারণে সেসময় প্রায় সবকয়টি ওয়ানডেতেই পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল ভারতকে। এমনকি নিজেদের প্রথম দুই বিশ্বকাপে মাত্র ১টি ম্যাচে জয়ের দেখা পেয়েছিল তারা।

মাহেন্দ্র সিং ধোনি

ক্রিকেট ইতিহাসে মাহেন্দ্র সিং ধোনি একটি বিরল চরিত্র। একদিকে সারাবিশ্বে তাঁর যেমন অগণিত-ভক্ত সমর্থক রয়েছে, তেমনিভাবে তাঁর সমালোচকদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। তাদের মধ্যে অনেকে তো আবার এটা মানতেও নারাজ যে ধোনি নিজের দেশের স্বার্থে খুব বেশিকিছু করেছেন। অবশ্য এর পিছনে ধোনির নিজেরও বেশকিছু ভুল রয়েছে। যেমন – তাঁর নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা ২০১৩ সালের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের শেষ ইনিংসে পর্যায়ে কিউইদের মাত্র ৯৪ রানেই ৫ উইকেট পড়ে গিয়েছিল। ঐসময় ফিল্ড সেটআপ পরিবর্তন করার বদলে ধোনি আক্রমণাত্নক ধাঁচে ফিল্ডারদের সাজান। এতে করে ব্র্যান্ডন ম্যাককুলাম ক্রিজে সেট হওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়ে যান এবং ৩০২ রানের অনবদ্য একটি ইনিংস খেলে ফিরে আসেন। কিউইরা পরবর্তিতে ৬৮০ রানে নিজেদের ইনিংস ঘোষণা করে আর সবশেষে সেই ম্যাচটি ড্র হয়ে যায়। আর সেই সিরিজটিও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে জিতে যায়।

এছাড়া ধোনি আধুনিক ক্রিকেটের সবচেয়ে মন্থর গতিতে খেলা ব্যাটসম্যানদের একজন। সাম্প্রতিককালে ২০১৯ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলা একটি ইনিংস এক্ষেত্রে বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। এমনকি সেই বিশ্বকাপের পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি তিনি।

রিচার্ড হ্যাডলি

স্যার রিচার্ড হ্যাডলি হচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব। তবে স্বার্থপর ক্রিকেটার হিসেবেও তাঁর বেশ দুর্নাম রয়েছে। তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে বোলিংয়ের রান আপ শুধুমাত্র এজন্যই কমিয়ে দিয়েছিলেন যাতে করে ক্যারিয়ারের আয়ুকে আরেকটু দীর্ঘস্থায়ী করা যায়। পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবেও তিনি ছিলেন খুবই একগুঁয়ে স্বভাবের। দল গঠনের জন্য তিনি কখনোই খেলোয়াড়দের খেলার মান বিবেচনায় আনতেন না। বরং পরিসংখ্যানে যারা বেশি এগিয়ে, সরাসরি তাদেরকে নিয়েই দল গঠন করে ফেলতেন। আবার স্বভাবেও ছিলেন বেশ কৃপণ মনোভাবের। ম্যাচ জেতার পর জয়ী দলের খেলোয়াড়কে যে অর্থ পুরস্কার দেওয়া হতো, সেটিও তিনি নিজের সতীর্থদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতেন না। যেখানে রেওয়াজ অনুসারে প্রাপ্ত পুরস্কারের অর্থের একটি অংশ নিজের দলের খেলোয়াড়দেরকে দিতে হয়। এসব কারণেই ‘গ্রেট প্লেয়ার’ হওয়া সত্ত্বেও এরকম একটি লজ্জাজনক তালিকাতে তাঁর নামটিও উঠে এসেছে।

শহিদ আফ্রিদি

পাকিস্তানের ক্রিকেটের জন্য শহিদ আফ্রিদি রীতিমতো একজন মহাতারকা। তিনিই প্রথম তাঁর স্বদেশি ক্রিকেটারদের শিখিয়েছেন যে, ছোট ফর্ম্যাটগুলোতে কিভাবে ভালোভাবে খেলতে হয়। যেকারণে পাকিস্তানে তাঁর ভক্ত-সমর্থকদের কখনোই কোনো কমতি ছিল না। তবে কিছু আচরণ তাঁর সামাজিক মর্যাদায় বেশ আঘাত হেনেছিল এবং তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোর মন্দ শিরোনামে পরিণত হয়েছিলেন।

এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে, অধিনায়ক থাকাকালীন সময়ে তিনি কেবলমাত্র নিজের পছন্দের ক্রিকেটারদেরকেই দলে সুযোগ দিতেন। অপরদিকে তাঁর অপছন্দের ক্রিকেটাররা সর্বদাই বৈষম্যের শিকার হতেন। আবার অবসরের পরও আফ্রিদি আবারো খেলার মধ্যে ফিরে আসার চেষ্টা করেছিলেন। যে সুযোগটা অন্যান্য ক্রিকেটাররা সহজে পান না। এর মাধ্যমে তিনি এটাই যাচাই করতে চেয়েছিলেন যে, ভাগ্য তাঁর জন্য আরোকিছু অবশিষ্ট রেখে দিয়েছে কিনা।

স্টিভ স্মিথ

আইসিসির সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যানদের র‌্যাকিংয়ে ৯৪৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথ। যেখানে শীর্ষ দশেও এপ্রজন্মের কোনো ক্রিকেটারের নাম নেই। সুতরাং ক্রিকেটার হিসেবে স্মিথ কেমন, তা আর আলাদা করে বলে দিতে হচ্ছে না। তবে স্মিথের চরিত্র নিয়ে বলতে গেলে বেশ সংশয়েই পড়ে যেতে হয়। বেশ কয়েকটি নিন্দিত ঘটনার কারণে তিনি বেশ কয়েকবার তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছেন। যার মধ্যে বল টেম্পারিংয়ের গল্পটা কারই বা অজানা রয়েছে? গুঞ্জন রয়েছে যে, দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টে তিনিই তরুণ তারকা ক্যামেরন বেনক্রাফটকে শিরিষ কাগজে ঘষে বলটিকে বিকৃত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। আর যেহেতু সেসময় স্মিথই দলের অধিনায়ক ছিলেন, তাই তাঁর বিরুদ্ধে যাওয়ার সামর্থ্যও ছিল না বেনক্রাফটের। পরবর্তিতে ব্যাপারটি ক্যামেরায় ধরা পড়লে স্মিথ এবং ওয়ার্নারকে ১ বছরের জন্য ও বেনক্রাফটকে ৯ মাসের জন্য সবধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

স্টিভ ওয়াহ

দারুণ সফল একজন অধিনায়ক ছিলেন তিনি। আগ্রাসী মনোভাবের জন্য পরিচিতির পাশাপাশি কখনোসখনো স্বার্থপরের তকমাটাও লেগে যেত নামের পাশে। অনেকের মতে, স্টিভ ওয়াহ নিজের দলের হয়ে কখনোই খেলার চেষ্টা করেননি। বরং তিনি নিজের ক্যারিয়ারের রেকর্ড আরো সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রতি ম্যাচে অপরাজিত বা নট আউট থাকতে চাইতেন। যা তাঁর অপরপ্রান্তে খেলা ব্যাটসম্যানের ওপর বড়রকমের চাপ সৃষ্টি করত। আবার শহিদ আফ্রিদির মতো তাঁর বিরুদ্ধেও দল গঠনে নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপারকে টেনে আনার মতো অভিযোগ রয়েছে। যেকারণে তিনি কয়েকবার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও শের্ন ওয়ার্নের মতো দলের প্রয়োজনীয় সদস্যদের বাদ দিয়ে দিয়েছিলেন। পরে খোদ আয়ান চ্যাপেল পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের সামনে স্টিভ ওয়াহকে নিয়ে একবার বলেছিলেন, তিনি ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা স্বার্থপর অধিনায়ক।

ডোগলাস জার্ডাইন

বলুন তো, ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে কুখ্যাত অধ্যায় কোনটি ছিল? অনেক ক্রিকেট বোদ্ধাদের মতে সেটি ছিল ‘বডি লাইন’ স্ক্যান্ডাল। যেসময় প্রতিপক্ষকে অল্প রানের মধ্যে আটকে দিতে ইংলিশ বোলাররা এমন একটি নির্মম পদ্ধতি বেছে নেন যেখানে তাঁরা সরাসরি ব্যাটসম্যানদের শরীর লক্ষ্য করে বল ছুঁড়ে মারতেন। এতে করে ব্যাটসম্যানরা নিজেদের বলে আঘাতের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে ব্যাট দিয়ে সেটিকে আটকানোর চেষ্টা করতেন আর তা প্রতিসরিত হয়ে কাছাকাছি দাঁড়ানো ফিল্ডারদের হাতে চলে যেত। এরফলে তখনকার অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা অ্যাশেজ সিরিজে বারবার ইনজুরির শিকার হচ্ছিলেন যা দেশ দুইটির পারস্পরিক সম্পর্কের ওপরও বাজে প্রভাব ফেলছিল।

আর কুখ্যাত এই পদ্ধতির অন্যতম মাষ্টারমাইন্ড ছিলেন ইংলিশ দলের তৎকালীন অধিনায়ক ডোগলাস জার্ডাইন। গত শতাব্দির ত্রিশ-চল্লিশের দশকের পত্রিকাগুলোর বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন কিন্তু এমনটাই বলছে। এছাড়া সেসব প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছিল যে, তাঁর দলের অনেকে এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও তিনি তাতে কান না দিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মনোযোগ দিয়েছিলেন। অবশ্য তাঁর নেতৃত্বে খেলা বেশিরভাগ ম্যাচেই ইংলিশরা সাফল্য লাভ করেছিল। কিন্তু ইতিহাস তাঁকে সফল অধিনায়ক হিসেবে নয়, বরং একজন ধূর্ত চরিত্র হিসেবেই পরিচিতি দিয়ে আসছে।

সূত্র: ইন্টারনেট/স্পোর্টসজোন-২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *