যে ৭ ক্রিকেটারের নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে আপনার দাঁত ভেঙে যাবে!

ফিচার

‘স্থান, কাল ও পরিবেশ ভেদে ভাষার পরিবর্তন হয়।’ – ক্লাস টেনে পড়ার সময় বাংলা ব্যাকরণ বইয়ের এই লাইনটি আমাদের কাছে বেশ সুপরিচিত ছিল। কিন্ত এই ভাষার রূপভেদের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের নামেরও যে কি ভয়ঙ্কর পরিবর্তন হতে পারে, তা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ইভেন্টগুলোয় চোখ রাখলেই বোঝা যায়। প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কা থেকে শুরু করে সুদূর আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকা বা জিম্বাবুয়ের এমন অনেক ক্রিকেটার আছে যাদের নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে তাদের সতীর্থরা, এমনকি ধারাভাষ্যকাররা পর্যন্ত অনেক সময় হিমশিম খান। ক্রিকেট ইতিহাসের সেরকম সাত কঠিন নামের খেলোয়াড়দের নিয়েই রইলো এই আয়োজন।

লনওয়াবো তোতসোবে (Lonwabo Tsotsobe)

মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, অদ্ভুত রকমের জিনিসগুলো মানুষের দীর্ঘদিন মনে থাকে। ঠিক এমনটিই ঘটেছে সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান বোলার লনওয়াবো তোতসোবের ক্ষেত্রেও। জাতীয় দলের হয়ে বেশিদিন খেলার সুযোগ না পেলেও তাঁর নামটি এখনো সেপ্রজন্মের অনেক দর্শকই মনে রেখেছেন। অবশ্য বাঁ হাতি এই পেসার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দিনগুলোতে প্রায় নিয়মিতভাবেই উইকেট পেয়েছিলেন। তবে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ‘রাম-স্লাম টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ’-এ ম্যাচ পাতানো সংক্রান্ত দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তোতসোবেকে ২০১৭ সাল থেকে ৮ বছরের জন্য সবধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা (সিএসএ)।

পিউমেলেলো মাঙ্গওয়া (Mpumelelo Mbangwa)

জাতীয় দলে তাঁর উঠে আসার পিছনের গল্পটা বেশ চমকপ্রদ ছিল। তখনকার দিনের অন্যান্য জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটারদের মতো তিনি পারিবারিক সূত্রে ক্রিকেটে আসেননি। বরং খেলাটির প্রতি ভালোবাসাই তাঁকে এই জগতে টেনে এনেছিল। তবে নিজের নামের জন্য ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সতীর্থদের মাঝে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেন মাঙ্গওয়া। অন্যদিকে জাতীয় দলের সঙ্গীরাও তাঁর নামের উচ্চারণ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা দূর করতে একটি ভিন্ন উপায় বেছে নিয়েছিলেন। মাঙ্গওয়ার প্রকৃত নামটিতে ডাকার বদলে তাঁরা তাঁকে উল্টো আরেকটি সহজ উচ্চারণের ডাকনাম প্রদান করেন।

পরে এই ‘পমি’ নামেই তাঁকে বেশিরভাগ সময়ে ডাকা হয়ে আসছে। এছাড়া অনেকে আবার মাঙ্গওয়াকে আদর করে ‘পম’ নামে ডাকতে ভালোবাসেন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজের খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারকে খুব বেশি লম্বা করতে পারেননি মাঙ্গওয়া। শুরুর দিকে নিখুঁত লাইন এবং লেন্থে বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটসম্যানদের সুইংয়ের ধাঁধায় ফেলে বেশ নাম কুঁড়ালেও, বছর কয়েক যেতে না যেতেই তাঁর বোলিং ব্যাটসম্যানদের কাছে বেশ সহজবোধ্য হয়ে ওঠে। ফলে ২০০২ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর তাঁর আর কখনোই জাতীয় দলে ফেরা হয়ে ওঠেনি। তবে খেলা ছাড়ার পর কমেন্ট্রি বক্সে যোগ দেন মাঙ্গওয়া। তাঁর সুচিন্তিত ধারাভাষ্য অল্পসময়ের মধ্যেই তাঁকে বিশ্বের সেরা ধারাভাষ্যকারদের তালিকায় উঠিয়ে নিয়ে আসে এবং এখন পর্যন্ত তিনি এই পেশাতেই নিয়োজিত রয়েছেন।

চামিন্ডা ভাস (Chaminda Vaas)

একটা সময় বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের জন্য মহাআতঙ্কের নাম ছিলেন সাবেক শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার চামিন্ডা ভাস। দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য তাঁর নামটি ক্রিকেটের বহু প্রজন্ম স্মরণ রাখবে। অবশ্য এক্ষেত্রে একটা ঝামেলাও আছে। অনেকের ধারণা মতে, লঙ্কান বোলিং কিংবদন্তির পুরো নাম চামিন্ডা ভাস-ই। কিন্তু বাস্তবে তাঁর পুরো নাম যতোটা বড়, ততোটাই দুর্বোধ্য। এমনকি একারণে তাঁর স্বদেশিরাও তাঁর পুরো নামটি উচ্চারণ করতে ভয় পান। কেননা তাঁর পুরো নামটি হচ্ছে, ওয়ার্নাকুলসুরিয়া পাতবেন্ডিগে উশান্ত জোসেফ চামিন্ডা ভাস।

থিসারা পেরেরা (Thisara Perera)

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার থিসারা পেরেরার যে নামে ভক্ত-সমর্থকেরা তাঁকে চিনেন, সেটিও আসলে মূল নামের সংক্ষিপ্ত রূপ মাত্র। বাস্তবে তাঁর পরিবার প্রদত্ত নামটি হচ্ছে, ‘নারাঙ্গুদা লিয়ানারাচ্চিলাগে থিসারা চিরন্ত পেরেরা।’ শোনা যায়, তাঁর সতীর্থদের মুখেই নামটি ছোট হয়ে থিসারা পেরেরায় রূপ নিয়েছে। এতে করে শেষপর্যন্ত সমর্থক ও ধারাভাষ্যকারদেরও বড় সুবিধা হয়েছে।

হিথ ডেভিস (Heath Davis)

না, রসিকতা করছি না। আসলে নিউজিল্যান্ডের প্রাচীন আদিবাসী মাওরি গোষ্ঠীর ছেলে হিথ ডেভিসের নামের বানান এবং উচ্চারণ এতোটাই কঠিন যে তিনি নিজেও সহজে সেটি উচ্চারণ করতে চান না। বরং সহজে, সংক্ষেপে নামের শুধু হিথ ডেভিস অংশটিই উল্লেখ করেন। যেখানে প্রকৃতপক্ষে ইংরেজিতে তাঁর পুরো নামটি হচ্ছে, ‘Heath Te-Ihi-O-Te-Rangi Davis.’ বাংলায় যার উচ্চারণ দাঁড়ায় – হিথ তে-ইহি-ও-তে-রাঙ্গি ডেভিস। সাবেক এই ক্রিকেটার খেলোয়াড়ী জীবনেও ছিলেন নিজ প্রজন্মের অন্যতম সেরা তারকা পেসার।

কপিলা উইজেগুনাওয়ার্দনে (Kapila Wijegunawardene)

শ্রীলঙ্কার হয়ে ২৬টি ওয়ানডে ও ২টি টেস্ট ম্যাচ খেলা কপিলা উইজেগুনাওয়ার্দনে ছিলেন সেসময়ের লঙ্কান শিবিরের অন্যতম সেরা ওয়ানডে বোলার। যদিও তাঁর বোলিংয়ে বেশি গতিবৈচিত্রতা ছিল না, তারপরও তাঁর অবিচল মনোভাব এবং বলকে সুইং করার ক্ষমতা তাঁকে ব্যাটসম্যানদের কাছে কঠিন করে তুলেছিল। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এবং আশির দশকের শেষদিকে তাঁর হাত ধরেই দ্বীপরাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করা দলটি বেশ কয়েকটি বড় জয় পেয়েছিল। অবশ্য নিজের নামের জন্যও তখনকার ক্রিকেটপ্রেমিদের কাছে বেশ পরিচিত ছিলেন উইজেগুনাওয়ার্দনে। তাঁর পুরো নামটি হলো, ‘কপিলা ইন্দাকা উইরাক্কোডি উইজেগুনাওয়ার্দনে।

​এরিক জোয়ার্কজিনস্কি (Eric Szwarczynski)

দক্ষিণ আফ্রিকান বংশদ্ভূত এরিক জোয়ার্কজিনস্কির বেড়ে ওঠা নেদারল্যান্ডসের আলোবাতাসে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রতিটি ধাপেই তিনি ডাচদের হয়ে খেলেছেন। বলতে গেলে ডাচদের ব্যাটিং লাইনআপেরও বড় ভরসা তিনি। আবার নিজের ব্যাটিং প্রতিভার সুবাদে ইংলিশ কাউন্টির কয়েকটি আসরেও খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এছাড়া বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের মতো মোটামুটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও প্রতিরোধ গড়ে তুলে বেশ সুনাম কুঁড়িয়েছিলেন ​এরিক স্টেফান জোয়ার্কজিনস্কি। তবে তাঁর নামটি উচ্চারণ করতে গিয়ে ধারাভাষ্যকারদেরও অনেকবার থতমত খেতে হয়েছিল।

সূত্র : ইন্টারনেট / স্পোর্টসজোন ২৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *