বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন যাঁরা

ফিচার

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা মালেয়শিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর যেকোনো ভ্রমণপিপাসু বা প্রকৃতিপ্রেমির দৃষ্টি কেড়ে নিতে সক্ষম। পাশাপাশি একজন সাধারণ মানুষের মন জয় করার জন্য যা যা প্রয়োজন এশিয়ার অন্যতম উন্নত ও বিলাসবহুল শহরের কাছে তার প্রায় সবটুকুই রয়েছে। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটপাগল জনগোষ্ঠীর কাছে জায়গাটি পরিচিতি পেয়েছে অন্য এক কারণে। ১৯৯৭ সালের ১৩ই এপ্রিল, এই শহরের আলো-বাতাসকে সাক্ষী করেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন আকরাম-রফিকরা। এর দুইবছর পর, ১৯৯৯ সালে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডের মাটিতে সেই অনন্য স্বপ্নযাত্রার শুরু করে টাইগাররা। ১৯৯৯ থেকে ২০২০ – এই ২১ বছরে আয়োজিত হয়েছে মোট ছয়টি বিশ্বকাপ। সৌভাগ্যক্রমে যার প্রত্যেকটিতেই খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ।

তবে এই ছয় মৌসুমে স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের স্কোয়াডে পরিবর্তনের ছাপটাও ছিল সুস্পষ্ট। এছাড়া দেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী কিংবা সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীদের তালিকাতেও এসেছে বিস্তর পরিবর্তন। আবার ১৯৯৯ বা ২০০৩ সালে যে পরিমাণ রান করে বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান স্কোরার হওয়া যেত, আজকের দিনে সে পরিমাণ রান করে শীর্ষ পাঁচে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে টাইগাররা যখন আরো শক্তিশালী হয়ে উঠতে থাকবে, তখনকার প্রজন্মের জন্য লক্ষ্যটা একটু একটু করে আরো বড় হয়ে দাঁড়াবে। অবশ্য নিজের সমসাময়িক প্রজন্মের কাছে সেসময়ের টপ রান স্কোরারা সবসময়ই তারকা খ্যাতি পেয়ে আসছেন। কোনো এক ফাঁকে তাহলে চলুন শুনে (পড়ে!) আসি ছয় বিশ্বকাপের সেই ছয় তারকার গল্প।

মিনহাজুল আবেদীন নান্নু – ১৯৯৯ বিশ্বকাপ

কুয়ালালামপুরে ইতিহাস রচনার পর সেবছর ইংল্যান্ডে প্রথমবারের মতো কোনো বিশ্বকাপে খেলতে গিয়েছিল টাইগাররা। তাই স্কোয়াডের সবাইকেই অন্তত একটি ম্যাচে হলেও খেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানরাই বড় কোনো চমক দেখাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। অবশ্য ৩৩ বছর বয়সী মিনহাজুল আবেদীন নান্নৃ ছিলেন এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। গ্রুপ পর্বের পাঁচ ম্যাচের চারটিতে খেলার সুযোগ পাওয়া নান্নু সেবার ৩৫.০০ গড়ে মোট ১৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। আবার ২টি ম্যাচে অপরাজিত ফিফটির দেখাও পেয়েছিলেন। এরমধ্যে প্রথম হাফসেঞ্চুরিটি এসেছিল স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সেদিন ১১৬ বল খেলে ৬৮ রানে নটআউট ছিলেন তিনি। আর তাঁর এই ইনিংসের সুবাদেই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছিল বাংলাদেশ। আবার তার পরের ম্যাচেই শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও অপরাজিত ৫৩ রানের আরেকটি দারুণ ইনিংস খেলে আসেন নান্নু। এমনকি সেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে টাইগাররা যখন সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে হারিয়েছিল, সেদিনও স্কোরবোর্ডে ১৪ রান যোগ করেছিলেন তিনি।

খালেদ মাসুদ পাইলট -২০০৩ বিশ্বকাপ

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে গেলেই যেন কোনো এক অদ্ভুত কারণে বারবার হোঁচট খায় বাংলাদেশ। এমনকি বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে দুঃস্বপ্নে ঘেরা বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান আয়োজকও ছিল এই দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০০৩ সালের সেই বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ থেকে পুরোপুরিভাবে বঞ্চিত ছিলেন টাইগাররা। তা-ও ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের বিপক্ষে খেলা ম্যাচটির মাঝপথে বৃষ্টি নেমেছিল বলে রক্ষা। নাহলে গ্রুপ পর্বের ছয় ম্যাচের ছয়টিতেই হয়তো হেরে যেতেন পাইলট-আকরামরা।

আরো হতাশাজনক ব্যাপারটি হচ্ছে, সেবার ৫ ম্যাচ খেলেও, কেউই একশো রান সংগ্রহ করতো পারেননি। আবার দলের মধ্যে রান সংগ্রহে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে থাকা খালেদ মাসুদ পাইলটের হিসাবেও এসেছিল মাত্র ৯৯ রান। অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে তিনি গড়ে ১৯.৮ রান করেছিলেন! আবার তাঁর এই পাঁচ ইনিংসের বিন্যাসটাও দাঁড়িয়েছিল – ১,২০,২৯,৩৫,১৪। যা আফ্রিকার মাটিতে টাইগারদের করুণ পরিণতির কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

মোহাম্মদ আশরাফুল – ২০০৭ বিশ্বকাপ

২০০৭ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপটা বাংলাদেশিদের জন্য নানা কারণে আনন্দময় ছিল। আর ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের মাটিতে সেবার বাংলাদেশিদের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। অবশ্য আগের বিশ্বকাপেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক ফিফটির মাধ্যমে তখন থেকেই নিজের শক্তিমত্তার জানান দিয়ে রেখেছিলেন এই তরুণ তারকা ব্যাটসম্যান। এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজে গ্রুপ পর্বের শুরু থেকেই নিজেকে মেলে ধরতে শুরু করেন তিনি। আরো মজার ব্যাপার হলো, সেবার গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচেও আশরাফুল প্রতিপক্ষের বোলারদের কাছে পরাজিত হননি। প্রত্যেকটি ম্যাচেই ছিলেন নটআউট। এরমধ্যে ভারতের বিপক্ষে খেলা সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে তিনি ছয় নম্বরে নেমে ৮* রান করেছিলেন। তারপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪৫* এবং সবশেষে বারমুডার বিপক্ষে ২৯* রান করেছিলেন।

তবে সুপার এইট স্টেজে গিয়ে বড় বড় দলগুলোর বিপক্ষে খু্ব একটা সুবিধা করে উঠতে পারেননি আশরাফুলরা। অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একটি বড় জয়ের দেখা ঠিকই পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেদিন আশরাফুলের ৮৭ রানের অনবদ্য এক ইনিংসের ওপর ভর করে প্রোটিয়াদের ২৫২ রানের বড় টার্গেট দিয়েছিল টাইগাররা। যা তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ১৮৪ রানেই অলআউট হয়ে ৬৭ রানের বড় পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকানদের। অন্যদিকে গ্রুপ পর্ব এবং সুপার স্টেজ মিলিয়ে মোট ২১৬ রান এসেছিল আশরাফুলের ব্যাট থেকে। যেখানে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল কাঁটায় কাঁটায় ২৪।

ইমরুল কায়েস – ২০১১ বিশ্বকাপ

স্বপ্নটা এবার আপনা থেকেই ঘরে এসে ধরা দিয়েছিল। কেননা ২০১১ বিশ্বকাপের তিন আয়োজকদের একজন ছিল খোদ বাংলাদেশ। তাই ঘরের মাটিতে টাইগারদের কাছ থেকে বড় ধরনের কোনো প্রদর্শনী দেখার জন্য অধীর আগ্রহে বসেছিলেন দর্শকরা। আর গেলবারের ধারাবাহিকতায় এবারো ব্যাটসম্যানদের রান করার ক্ষুধাটা অনেকটুকুই বেড়ে গিয়েছিল। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রানটা সেবার এসেছিল ২৩ বয়সী তরুণ ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েসের হাত ধরে। গ্রুপ পর্বের ৬ ম্যাচে ৩১.৩৩ গড়ে মোট ১৮৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। যার মধ্যে আবার দুইটি ম্যাচে ফিফটিও হাঁকিয়েছিলেন খুলনার এই ছেলে।

অন্যদিকে ইমরুলের পর রান স্কোর করার দৌঁড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন টাইগারদের বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল। সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে মোট ১৫৭ রান স্কোর করেছিলেন তিনি। এমনকি তাঁর ব্যাটিং গড়ও (২৬.১৬৬৭) আগের আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক আশরাফুলের ব্যাটিং গড়ের (২৪) চাইতে বেশি ছিল। আবার গোটা আসরে ১৪২ রান সংগ্রহে করে তালিকার তৃতীয় স্থানে সাকিবের নামটিও সেবার উঠে এসেছিল।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ – ২০১৫ বিশ্বকাপ

২০১৫ বিশ্বকাপটি বাংলাদেশের জন্য ছিল স্বপ্নের বিশ্বকাপ, স্বপ্ন জয়ের বিশ্বকাপ। ততদিনে অবশ্য টাইগারদের ‘পঞ্চপান্ডবের’ ধারণাটিও প্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। আর অশেনিয়া মহাদেশে আয়োজিত ঐ বিশ্ব আসরে পঞ্চপান্ডবের চার ব্যাটিং তারকা – তামিম, মুশফিক, সাকিব এবং মাহমুদউল্লাহদের সবাই মোটামুটি নিয়মিত রানের দেখা পেয়েছেন। এরমধ্যে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নেলসনের স্যাক্সটন ওভালে আরেকটু হলেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপ সেঞ্চুরির দেখাটা পেয়ে যাচ্ছিলেন ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। দুর্ভাগ্যক্রমে সেদিন ‘নার্ভাস নাইন্টিতে’ তিনি আউট হয়ে ফিরে গেলেও পরের দুইটি ম্যাচে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে রেকর্ডটি নিজের নামের পাশে বসিয়ে নেন ‘সাইলেন্ট কিলার’ খ্যাত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এরমধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় লাভ করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও পৌঁছে যায় মাশরাফিবাহিনী। পরের ম্যাচে অবশ্য নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অল্পের জন্য হেরে গেলেও মাহমুদউল্লাহ সেদিন ৩ ছক্কা ও ১২ চারের মারে অপরাজিত ১২৮ রানের অনবদ্য আরেকটি ইনিংস খেলেছিলেন। পাশাপাশি টুর্নামেন্টটির অন্যান্য ম্যাচগুলোতেও নিয়মিত রান করেছিলেন তিনি।

এতে করে ঐ আসরের সর্বোচ্চ রান স্কোরারও বনে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৬০.৮৪ রানের অসাধারণ এক গড় নিয়ে মোট ৩৬৫ রান করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে তাঁরই আপন ভায়রা ভাই মুশফিকুর রহিম ৪৯.৬৭ গড়ে ২৯৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশিদের মাঝে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন। অপরদিকে দুই ফিফটির সমন্বয়ে ১৯৬ রান সংগ্রহ করে সাকিব এই দৌঁড়ে ছিলেন তৃতীয় অবস্থানে। তবে ওপেনার তামিম ইকবাল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা ৯৫ রানের ইনিংসটি ব্যতীত অন্য ম্যাচগুলোয় ভালোকিছু করে দেখাতে ব্যর্থ হন এবং সমপর্যায়ের অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে পড়েন।

সাকিব আল হাসান – ২০১৯ বিশ্বকাপ

প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির বিশ্বকাপ ছিল সেটা। অবশ্য প্রাপ্তির বেশিরভাগ জায়গা জুড়েই ছিল প্রিয় সাকিব আল হাসানের নাম। ৮৬.৫৭ গড়ে ৮ ম্যাচে ৬০৬ রান তোলার পাশাপাশি সেবার তিনি শিকার করেছিলেন ১১টি উইকেটও। আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলা অপরাজিত ১২৪ রানের ইনিংসটিসহ হাঁকিয়েছিলেন মোট ২টি সেঞ্চুরি। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বের এই আট ম্যাচে চল্লিশের ঘরে পৌঁছানোর আগে একবারও তাঁকে আউট করতে পারেননি বোলাররা। এমনকি ঐ আসরে বাংলাদেশিরা সবাই মিলে যে ১৪টি ফিফটি হাঁকিয়েছিলেন, তার ৭টিই এসেছিল সাকিবের ব্যাট থেকে। তাছাড়া দ্রুত রান তোলার দিক থেকেও সাকিব সেবার হয়েছিলেন বিশ্বসেরা। এক কথায় অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স যাকে বলে। অবশ্য প্রাপ্তির তালিকাটা আরো বড় হতে পারত যদি কিনা ফিল্ডাররা এমন বাজে ফিল্ডিং আর বোলাররা এতোটা খরুচে না হতেন।

এদিকে গতবারের মতো এবারো তালিকার দ্বিতীয় স্থানটি দখলে রেখেছিলেন মুশফিকুর রহিম। ১টি সেঞ্চুরির সঙ্গে ২টি ফিফটি হাঁকিয়ে মোট ৩৬৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন মুশি। যেখানে তাঁর ব্যাটিং গড়ও ছিল পঞ্চাশের ওপরে (৫২.৪২)। খু্বই অল্প ব্যাটিং গড় (২৯.৩৭) নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন ওপেনার তামিম ইকবাল। মোট ২৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। তবে তুলনামূলকভাবে তাঁর চেয়ে অনেকটাই ভালো খেলেছিলেন গত আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ইনজুরিকে সঙ্গী করে ৭ ইনিংসে ২১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন তিনি, তা-ও মিডল অর্ডারে খেলেই। এমনকি গড়ে ৪৩.৮০ রান করে এই হিসাবেও তামিমকে পিছনে ফেলেছিলেন জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।

সবশেষে প্রতিবেদনটি থেকে এতটুকু স্পষ্ট যে যত দিন এগোচ্ছে, বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের সক্ষমতাও ততটাই বাড়ছে। আর এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো বয়সভিত্তিকের মতো করে সত্যিকারের বিশ্বকাপের টাইটেলটিও গিয়ে বসবে লাল-সবুজের এই সুজলা-সফলা, শস্য-শ্যামলা দেশটির পাশে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *