চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতে কত টাকা পেল বায়ার্ন মিউনিখ?

ক্লাব ফুটবল ফিচার

প্রথমে জার্মান কাপ, তারপর জার্মান লিগের পর এবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা অর্জন করলো জার্মানির সেরা ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ। বড় বড় সংবাদমাধ্যমগুলোয় যা পরিচিতি পেয়েছে ‘ত্রিমুকুট’ জয় হিসাবে । তবে মানতেই হচ্ছে, এবারের মৌসুমে ‘দ্য রেডসের’ মাঝে সত্যিই অন্যরকম কিছু ছিল। গ্রুপ পর্বের শুরু থেকে গতকাল ফাইনালের রাত পর্যন্ত মোট ১১ ম্যাচের সবগুলোতেই প্রতিপক্ষকে রীতিমতো গুঁড়িয়েই দিয়েছের হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে যা এর আগে কখনোই দেখা যায়নি। ফলে অনেকটা রাজার বেশেই গতকাল হোটেলে ফিরতে পেরেছেন লেভানডফস্কি-মুলাররা।

এখন প্রশ্ন হলো, ইউরোপের সবচেয়ে দামি টুর্নামেন্টটি থেকে এবছর কত পরিমাণ অর্থ আয় করেছে জার্মানির এই দল? এর উত্তর দেওয়ার আগে চলুন এধরনের কোনো টুর্নামেন্ট থেকে অর্থ উপার্জনের পথ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা নিয়ে নেই। প্রথমত, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যেকোনো আসরের গ্রুপ পর্বে নাম লেখাতে পারা মানেই হচ্ছে ব্যাংক হিসাবে মিলিয়ন মিলিয়ন ইউরো জমা হওয়া। এবারের আসরে যেটি ছিল প্রায় ১৫.২৫ মিলিয়ন ইউরোর মতো। এরপর গ্রুপ পর্বের ড্রতে অংশ নিয়ে জিততে পারলে, তখন আরো লাভ হবে ৯ লাখ ইউরোর মতো। এরপর কোনো দল যদি গ্রুপ পর্ব উৎরাতে সক্ষম হয়, তাহলে আগের হিসাবের সঙ্গে যোগ হচ্ছে আরো ২.৭ মিলিয়ন ইউরো। একইভাবে রাউন্ড সিক্সটিনে ৯.৫ মিলিয়ন ইউরো, কোয়ার্টার ফাইনালে ১০.৫ মিলিয়ন ইউরো, সেমি ফাইনালে ১২ মিলিয়ন করে পেয়ে থাকে এসব পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলো। অন্যদিকে ফাইনাল নিশ্চিত করা মানেই হলো, আরো ১৫ মিলিয়ন ইউরোর হাতছানি। আর চ্যাম্পিয়নদের ক্ষেত্রে যে অঙ্কটি গিয়ে দাঁড়ায় ১৯ মিলিয়ন ইউরো বা ১৯০ কোটি বাংলাদেশি টাকায়!

তবে এখানেই শেষ নয়। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া এই অর্থের সঙ্গে পরবর্তিতে যোগ হয় টেলিভিশন মার্কেট পোল আর টিকেট অ্যান্ড গেট মানি থেকে পাওয়া অর্থটুকুও। অবশ্য করোনা মহামারির কারণে যেহেতু চলতি মৌসুমের অনেক ম্যাচই খেলতে হয়েছে দর্শকবিহীন মাঠে, তাই টিকিট এ্যান্ড গেট মানির হিসাবটা এবার না হয় বাদই দিলাম। কিন্তু তারপরও টেলিভিশন সম্প্রচার সত্ত্ব থেকে কম-বেশি ২৯২ মিলিয়ন ইউরোর মতো আয় করে থাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। টুর্নামেন্ট শেষে যা আনুপাতিক হারে ভাগ করে দেওয়া হয় দলগুলোর মাঝে। যদিও এক্ষেত্রে টাকার পরিমাণটা নির্ভর করছে কোনো দেশ থেকে কর্তৃপক্ষ কত আয় করেছে তার ওপর। যে দেশ থেকে উয়েফা বেশি উপার্জন করবে, সেখানকার স্থানীয় দলগুলোও ততো বেশি টাকা লাভ করবে। সাধারণত মৌসৃম প্রতি, দলগুলো গড়ে ৩৫.৩ মিলিয়ন ইউরোর মতো আয় করলেও আয়ের উৎস বিবেচনায় ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল এবং টটেনহামের প্রাপ্ত টাকার অঙ্কটা অনেক বড় থাকে।

তাহলে সবমিলিয়ে এবারের চ্যাম্পিয়ন দল বায়ার্ন মিউনিখের মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়ালো মোটামুটি ১১৭.৭৫ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ১১৭৮ কোটি টাকার মতো। এদিকে পিএসজিরও হতাশ হওয়ার মতো তেমন কিছু নেই। অর্থ উপার্জনের এই দৌঁড়ে তারা বায়ার্নের তুলনায় বড়জোর ৫-৬ মিলিয়ন ইউরো কম আয় করতে পেরেছে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *