শুভ জন্মদিন ‘স্যার ডন’!

জন্মদিন

পুরো নাম, ডোনাল্ড র্জজ ব্র্যাডম্যান। পুরো বিশ্ব তাকে চিনে, ‘দ্য ডন’ নামে। ক্রিকেট বিশ্বে তিনি সবার ‘স্যার’। কোন তর্ক ছাড়াই ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। বিশ্বের মহান এই ক্রিকেটারের ১১২ তম জন্মদিন আজ। ১৯০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের বাউরালে জন্ম নেন এই ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব।

তর্কাতীত ভাবেই সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবেই তাঁকে সকলে মনে রেখেছেন। ডন ব্র্যাডম্যানের অধিনায়কত্বেই অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে উত্থান শুরু। এবং এখনও দেশের খেলার ইতিহাসে তিনি শীর্ষ নাম। ব্র্যাডম্যানের টেস্ট ক্রিকেটে গড় ৯৯.৯৪, যা এখনও কেউ ভাঙতে পারেননি। সবাই মনে করেন, রেকর্ড আজীবন অতীতই হয়ে থাকবে।

১৯২৮ সালের ৩০ নভেম্বর ব্রিসবেনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক হয় ব্র্যাডম্যানের। আর ১৯৪৮ সালে দ্যা ওভালে খেলেছেন শেষ ম্যাচ। তার ক্যারিয়ারে ৫২ টেস্টে ছিল ২৯টি সেঞ্চুরি ও ১৩টি হাফসেঞ্চুরি। মোট রান ৬ হাজার ৯৯৬। যেখানে সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৩৩৪। এদিকে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেও কম যাননি ডন। ২৩৪টি ম্যাচে ৯৫.১৪ গড়ে ১১৭টি সেঞ্চুরি ও ৬৯টি হাফসেঞ্চুরি সহ করেছেন ২৮ হাজার ৬৭ রান। সর্বোচ্চ ইনিংস ৪৫২ অপরাজিত।

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর নেবার পর পরবর্তী তিন দশক প্রশাসক, দল নির্বাচক ও লেখক হিসেবে আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন। খেলার জগৎ থেকে দূরে থাকা সত্ত্বেও তার মতামত বেশ গ্রহণযোগ্যতা পেতো ও তার মর্যাদা জাতীয় পর্যায়ের সমতুল্য ছিল। টেস্ট খেলোয়াড় হিসেবে অবসর গ্রহণের প্রায় ৫০ বছর পর ১৯৯৭ সালে অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ড তাকে ‘সর্বশ্রেষ্ঠ জীবিত অস্ট্রেলীয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। ডাকটিকিট ও মুদ্রায় ব্র্যাডম্যানের প্রতিচিত্র উপস্থাপন করা হয়। জীবিত অবস্থাতেই তার জীবনের সবগুলো দিক জাদুঘরে উৎসর্গ করা হয়েছিল। ২৭ আগস্ট, ২০০৮ তারিখে রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান মিন্ট কর্তৃপক্ষ তার প্রতিকৃতিসহ ৫ ডলার মূল্যমানের স্বর্ণমুদ্রা প্রকাশ করে। ২০০৯ সালে আইসিসি ক্রিকেট হল অব ফেমে তাকে মরণোত্তর অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল।

১৯৪৯ সালে অর্জন করলেন সম্মানসুচক ‘নাইটহুড’। উইজডেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারের পুরস্কারটি একাই দশবার এবং গ্যারি সোবার্স আটবার লাভ করেছিলেন। এছাড়া, অন্য কোন খেলোয়াড়ই তিনবারের বেশি লাভ করতে পারেননি। ২০০০ সালে শতাব্দীর সেরা অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ড দলে তাকে অধিনায়ক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

টেস্ট ক্রিকেটের রাজা ২০০১ সালে ২৫ ফেব্রুয়ারি মৃত্যবরণ করেন। ৯২ বছর ১৮২ দিন বয়সে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডের কেনিসিনটংন পার্কে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

ব্র্যাডম্যানের জন্মদিনে জেনে নেওয়া যাক তার জীবনের কিছু বিচিত্র ঘটনা:

১. ক্রিকেটার না হয়ে তিনি মিউজিশিয়ান হলেও খারাপ করতেন না। ১৯৩০ সালে “এভরিডে ইজ আ রেইনবো ডে ফর মি” নামে একটি গান কম্পোজ করে রেকর্ড করেছিলেন। এ ছাড়া পিয়ানোবাদক হিসেবেও “অ্যান ওল্ড ফ্যাশনড লকেট” এবং “আওয়ার বাংলো অব ড্রিমস” নামে তাঁর দুইটা গান আছে।

২. ১৯৩১ সালে অস্ট্রেলিয়ায় এক খেলায় মাত্র তিন ওভারে ১০০ রান তুলেছিলেন। তখন এক ওভারে ৮ বল করা হতো। ব্র্যাডম্যান মাত্র ২২ বলেই ১০০ তোলেন সেদিন। ২২ বলের এই ঝড়ে ১০টি ছক্কা ও ৯টি চার হাঁকিয়েছিলেন তিনি। অপর প্রান্তের ব্যাটসম্যান বাকি দুই বলে দুই রান তুলেছিলেন।

৩. অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের মধ্যে একমাত্র ব্র্যাডম্যানকেই নাইটহুড উপাধি দেওয়া হয়েছে। তিনি ‘স্যার’ হন ১৯৪৯ সালে। ক্রিকেটে অবদানের জন্য তাকে নাইটহুড দেওয়া হয়।

৪. টেস্টে ৮০ বার ব্যাট করতে নেমে ২৯টি শতক। অর্থাৎ প্রতি তিন ইনিংসে কমপক্ষে একটি শতরানের ইনিংস। সেই ব্র্যাডম্যান কিনা টানা এগারো ইনিংসে কোনো শতক পাননি! এই সময়ে অর্ধশতও মাত্র তিনটি।

৫. জীবনের শেষ ইনিংসে মাত্র চার রানের দরকার ছিল ক্যারিয়ার গড়কে ১০০-তে নেওয়ার জন্য। কিন্তু দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে আউট হয়ে যান তিনি। আউট হওয়ার পর অবিশ্বাস্য সেই রেকর্ডের কথা ভেবে প্রথম কথাই ছিল, ‘যদি পারতাম!’

৬. অস্ট্রেলিয়ার সমস্ত প্রদেশ এবং প্রদেশের রাজধানীতে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটবোর্ডের যে অফিস আছে সব অফিসের পোস্ট বক্স নম্বর ৯৯৯৪। এটি স্যর ডনের ব্যাটিং অ্যাভারেজ ৯৯.৯৪ এর সম্মানে।

৭. অত্যন্ত সাবধানে গাড়ি চালাতেন ব্র্যাডম্যান। শুধুমাত্র বাঁ দিকে গাড়ি ঘোরাতেই পছন্দ করতেন। যাকে বলে কনসেন্ট্রিক সার্কেলই ছিল তার পছন্দের।

৮. রোবেন দ্বীপে বন্দি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা ‘মাদিবা’ নেলসন ম্যান্ডেলা। ১৯৯০ সালে দীর্ঘ ২৭ বছর কারাবাসের পর মুক্তি পান। ফ্রেসার অস্ট্রেলীয় জেনেই ম্যান্ডেলা তাঁর সঙ্গে প্রথম যে কথাটি বলেছিলেন সেটা হচ্ছে, ‘ব্র্যাডম্যান বেঁচে আছে তো?’

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট/স্পোর্টসজোন/পিএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *