শুভ জন্মদিন ‘কিং অব ইয়র্কার’ লাসিথ মালিঙ্গা

জন্মদিন

শুভ জন্মদিন কিং অব ইয়র্কার, লাসিথ মালিঙ্গা। ১৯৮৩ সালের আজকের দিনে (২৮ আগস্ট) শ্রীলঙ্কার গলে প্রত্যন্ত এক অঞ্চলে তার জন্ম, পুরো নাম সেপারামাদু লাসিথ মালিঙ্গা। ৩৭ বসন্ত পার হয়ে ৩৮ তে পদার্পণ করলেন এই কিংবদন্তি।

রাথগামার সেই নির্জন গ্রামে বালুর মাঠে বন্ধুদের সাথে খেলতে গিয়েই ভালোবেসে ফেলেন ক্রিকেটকে। তখন অবশ্য টেনিস বল দিয়েই ক্রিকেট খেলতেন তিনি। শ্রীলঙ্কায় যত ক্রিকেটার বের হয় তাদের সিংহভাগই আসে স্কুল ক্রিকেট থেকে কিন্তু মালিঙ্গার অস্বচ্ছল পরিবারের সেসব স্কুলে পড়ানোর সামর্থ্য ছিল না। তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও শৈশবে স্কুল ক্রিকেটের অংশ হতে পারেননি তিনি। তবে বিদ্যালোকা কলেজে থাকাকালীন সৌভাগ্যক্রমে তিনি শ্রীলঙ্কার সাবেক পেসার চম্পাকা রামানায়েকের নজরে পড়ে যান।

সেই নজরে আসার মূল কারণ ছিল তার অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশন, পৃথিবীর অধিকাংশ পেসার যেখানে রাউন্ডআপ অ্যাকশনে বোলিং করেন, সেখানে মালিঙ্গা বোলিং করতেন ১৮০ ডিগ্রি কোণে হাত রেখে।  টেনিস বলে খেলতে গিয়েই অদ্ভুতুড়ে এক অ্যাকশন আয়ত্ত্ব করেন তিনি। উইজেডেনের মতে, মালিঙ্গার এই অ্যাকশনের সাথে ক্রিকেটের স্লিঙ্গিং অ্যাকশনের অনেক মিল আছে, আর এই কারণে পরবর্তীতে মালিঙ্গার ডাকনাম হয়ে যায় “স্লিঙ্গা মালিঙ্গা।” এমন বিরল প্রজাতির এক পেসারকে পেয়ে সাথে সাথে লুফে নেন রামানায়েকে, মালিঙ্গাকে তিনি নিয়ে যান মাহিন্দা কলেজে এবং কলেজের মূল একাদশে খেলানোর সুযোগ করে দেন।

এই বোলিং অ্যাকশনের কারণে জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজরেও পড়েন তিনি। তাই মাত্র ২১ বছর বয়সেই জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ঘটে তার।

অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনের মারারা ওভাল মাঠে ১-৩ জুলাই, ২০০৪ তারিখে অভিষেক ম্যাচটিতে ড্যারেন লেহম্যানকে দুইবার, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ড্যামিয়েন মার্টিন, শেন ওয়ার্ন এবং মাইকেল কাসপ্রোভিচসহ মোট ৬টি উইকেট নিয়ে দ্রুত
সফলতার মুখ দেখেন। খেলা শেষে তিনি অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের বন্ধুত্বসূলভ মনোভাব বিশেষ করে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের কাছ থেকে উচ্ছসিত সমর্থন পান।

২০১১ সালের ২২শে এপ্রিল তিনি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। ক্যারিয়ারে ৩০ টেস্টে ৫,২০৯ টি বল করে নিয়েছেন ১০১ টি উইকেট।

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১১ জুলাই, ২০০৪ সালে ডাম্বুলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত জাতীয় ক্রিকেট দলের বিপক্ষে অভিষেক ঘটে। এরপর থেকেই তিনি নিয়মিত সদস্য হিসেবে জাতীয় দলে হয়ে উঠেন। ২০১৯ সালের ২৬শে জুলাই তিনি বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওডিআই ম্যাচ খেলে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।

এই ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ম্যাচ খেলেছেন ২২৬ টি। বল করেছেন ১০ হাজার ৯৩৬ টি। উইকেট নিয়েছেন ৩৩৮ টি। ইনিংসে ৫ উইকেট ৮ বার। সেরা বোলিং ৩৮ রান দিয়ে ৬ উইকেট লাভ। শ্রীলঙ্কার হয়ে ওডিআই তে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট মালিঙ্গার। প্রথম স্হানে মুথিয়া মুরালিধরন ও দ্বিতীয় স্হানে চামিন্ডা ভাস।

ব্যাটিংয়ের কথায় এলে দেখা যায়, তার একটি ৫৬ রানের ইনিংস রয়েছে, যেটা তার সর্বোচ্চ। ওয়ানডেতে তার মোট রান ৫৬৭।

২৮ মার্চ, ২০০৭ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দলের বিপক্ষে দূর্দান্ত সফলতা অর্জনের মাধ্যমে ক্রিকেট বিশ্বের নজর কাড়েন। ঐদিন তিনি ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাট্রিকসহ পরপর চারটি বলে চারজন খেলোয়াড়কে আউট করেন। হ্যাট্রিকটি ছিল বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ইতিহাসে ৫ম, শ্রীলঙ্কা দলের জন্যে ৩য় এবং একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৪তম। ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম বোলার হিসেবে দ্বিতীয়বার ৪ বলে ৪ উইকেট নেন মালিঙ্গা।

ক্রিকেটের এই একটি ফরম্যাটে এখনো খেলে যাচ্ছেন মালিঙ্গা। এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৮৩ টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ইতোমধ্যেই প্রথম বোলার হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। টি-২০ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলারও তিনি। ক্যারিয়ারে ১,৭৯৯ বল করে নিয়েছেন ১০৭ টি উইকেট।

মালিঙ্গার বিশেষ অর্জনগুলো দেখে নেওয়া যাক:

১) শ্রীলঙ্কার টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক। ২০১৪ সালে তার নেতৃত্ব লঙ্কানরা বিশ্বকাপ জিতেছিল।

২) একমাত্র বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে তিনবার হ্যাটট্রিক।

৩) একমাত্র বোলার হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ হ্যাট্রিক ২ বার।

৪) একমাত্র বোলার যার আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে ৫ টা হ্যাটট্রিক রয়েছে।

৫) শ্রীলঙ্কার হয়ে টিটুয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেট ১০৭ টি।

৬) প্রথম বোলার হিসেবে আর্ন্তজাতিক টিটুয়েন্টিতে শত উইকেটের মালিক।

৭) শ্রীলঙ্কার হয়ে ওডিআই তে ৩য় সর্বোচ্চ উইকেট ৩৩৮ টি।

৮) ওডিআইতে মোস্ট বোল্ড আউট (১০২)।

৯) একমাত্র বোলার ৪ বলে ৪ উইকেট, এক ইনিংসে ৫ উইকেট বা তার বেশি উইকেট নেয়া বোলারদের মধ্যে ০ রানে ৪ জন কে আউট করা একমাত্র বোলার।

১০) আইপিএল এর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি উইকেট।

ইন্টারনেট/স্পোর্টসজোন/পিএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *