শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৫ রানে হারিয়ে সিরিজ বাঁচাল পাকিস্তান

ক্রিকেট

অভিষিক্ত হায়দার আলী ও অভিজ্ঞ মোহাম্মদ হাফিজের ঝড়ো ফিফটিতে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯০ রানের বড় সংগ্রহের পর ওয়াহাব – আফ্রিদির দুর্দান্ত বোলিংয়ে ইংলিশদের ১৮৫ রানে আটকে দিয়ে ৫ রানের জয়ে ১-১ সমতায় সিরিজ ড্র করল পাকিস্তান।

সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ের ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান শুরুতেই ফখর জামানকে হারিয়ে বিপদে পড়ে যায়। এরপর ব্যাটিংয়ে নামের ১৯ বছরের তরুণ হায়দার। নিজের দ্বিতীয় বল মোকাবেলাতেই মইন আলীকে লম্বা ছক্কা হাঁকিয়ে বড় ইনিংসের জানান দেন।

দ্রুত রান তুলে অধিনায়ক বাবর আজমের চাপ কমান হায়দার। কিন্তু এদিন অধিনায়ক নিজেই ব্যর্থ হন। বাবর ফেরেন ২১ রান করেই।

এরপর অভিজ্ঞ মোহাম্মদ হাফিজের সাথে জুটি বাঁধেন হায়দার। যেই হাফিজের টি-২০ অভিষেকর সময় হায়দার আলী ছিল ২ বছরের শিশু সেই নাবালক হায়দার হাফিজের সাথে শতরানের জুটি গড়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যান।

পাকিস্তানের হয়ে অভিষেকে সবচেয়ে বেশি ৪৬ রান করা হাফিজকে ছাড়িয়ে তারই সাথে প্রথম পাকিস্তানি হিসেবে টি-২০ অভিষেকে ফিফটির রেকর্ড গড়েন হায়দার আলী। দলীয় ১৩২ রানে তার বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন মোহাম্মদ হাফিজ।

দ্রুত রান তুলে ৩৯ বছর বয়সী হাফিজ ৩১ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৩তম আর সিরিজে টানা দ্বিতীয় ফিফটি। শেষ পর্যন্ত তার ৫২ বলে অপরাজিত ৮৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ইংলিশদে্ বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯০ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান।

এদিন ইংলিশদের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন ক্রিস জর্ডান। এছাড়াও ১ টি করে উইকেট নেন মইন আলী ও টম কারান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে দ্রুতই জনি বেয়ারস্টো – ডেভিড মালানকে হারিয়ে বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা। দারুণ শুরু করেও রান আউটের ফাঁদে পড়ে অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান ফিরলে আরো চাপ বেড়ে যায় ইংলিশদের।

তবে শুরুর চাপ সামলে টম বেন্টন ও মইন আলীর ব্যাটে ঘুরে দাড়ায় ইংল্যান্ড। এরপর দলীয় ৬৯ রানে হারিস রউফের বলে ৩১ বলে ৪৬ রান করে বেন্টন বিদায় নিলে আবারো বদলে যায় ম্যাচের রঙ।

শুরুতেই জীবন পাওয়া মইন আলী এরপর চড়াও হন পাকিস্তানী বোলারদের উপর। শেষ দিকে স্যাম বিলিংসকে নিয়ে গড়েন ৫৬ রানের জুটি।

শেষ দিকের সমীকরণে জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ২০ রান, হাতে ছিল ৪ উইকেট। দারুণ বোলিং-ফিল্ডিংয়ে ১৯তম ওভারে পাকিস্তানের দিকে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন ওয়াহাব রিয়াজ। দলে ফেরা বাঁহাতি এই পেসার সরাসরি থ্রোয়ে ক্রিস জর্ডানকে রান আউট করার পর নেন মইনের ফিরতি ক্যাচ। এই ওভারে দেন মাত্র ৩ রান।

শেষ ওভারে ১৭ রান প্রয়োজন হলে হারিয়স রউফের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১১ রান নিতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড। আর তাতেই ৫ রানের জয় পায় পাকিস্তান।

পাকিস্তানের হয়ে ২ টি করে উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ওয়াহাব রিয়াজ। ১ টি করে উইকেট নেন হারিস রউফ ও ইমাদ ওয়াসিম।

উল্লেখ্য, এর আগে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল। আর দ্বিতীয় ম্যাচটি জিতেছিল স্বাগতিক ইংল্যান্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান ১৯০/৪(২০)
মোহাম্মদ হাফিজ ৮৬(৫২)*, হায়দার আলী ৫৪(৩৩)
ক্রিস জর্ডান ২/২৯, মইন আলী ১/১০।

ইংল্যান্ড ১৮৫/৫(২০)
মইন আলী ৬১(৩৩), টম বেন্টন ৪৬(৩১)
ওয়াহাব রিয়াজ ২/২৬, ওয়াহাব রিয়াজ ২/২৮।

ম্যাচের ফলাফল: পাকিস্তান ৫ রানের জয়ী।
ম্যাচসেরা: মোহাম্মদ হাফিজ।
সিরিজের ফলাফল: ১ – ১ সমতায় ড্র।
সিরিজ সেরা: মোহাম্মদ হাফিজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *