যেই ক্রিকেটে থাকেন না কোনো ব্যাটসম্যান!

ফিচার

ছোটবেলায় বন্ধুরা মিলে যখন বিকালে মাঠে খেলতে যেতাম, তখন মাঝেমধ্যে খেলার বিষয়বস্তু নিয়েই সবাই দুই দলে ভাগ হয়ে যেতাম। একদল বলতো যে , আজকে ক্রিকেট খেলা হবে। আবার অপরপক্ষ বলতো যে, ‘না অনেকদিন টানা ক্রিকেট খেলা হয়েছে। আজ নাহয় ফুটবলই খেলা হোক।’ ব্যস, এই নিয়ে তর্কাতর্কি করতে করতে শেষমেষ কোনো খেলাই মাঠে গড়াতো না। এই প্রতিবেদনটি লিখতে গিয়ে আজ মনে হচ্ছে যে, ‘ইশ, আগে যদি জানতাম, লেগ ক্রিকেট নামেও একটি খেলা পৃথিবীতে আছে, তাহলে শুধু শুধু ঐসব সোনালি বিকেলগুলোয় না খেলেই ঘরে ফিরতে হতো না।’ এখন বলতে পারেন, ‘লেগ ক্রিকেট আবার কি জিনিস? এতোদিন ধরে খেলার খবর রাখছি, কই আমি তো কোনোদিনও এর নাম শুনিনি।’ অবশ্য না জানাটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খেলাটি নতুন হলেও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল ,ভুটান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এমনকি ঘানা, ফ্লোরিডাতেও খেলাটি প্রায় এক দশক ধরে খেলাটি আয়োজিত হয়ে আসছে। তা কিভাবে খেলা হয় এই লেগ ক্রিকেট? কি বা এর নিয়ম? সেসব নিয়েই থাকছে অদ্যকার এই আয়োজন।

ছোটবেলায় বন্ধুরা মিলে যখন বিকালে মাঠে খেলতে যেতাম, তখন মাঝেমধ্যে খেলার বিষয়বস্তু নিয়েই সবাই দুই দলে ভাগ হয়ে যেতাম। একদল বলতো যে , আজকে ক্রিকেট খেলা হবে। আবার অপরপক্ষ বলতো যে, ‘না অনেকদিন টানা ক্রিকেট খেলা হয়েছে। আজ নাহয় ফুটবলই খেলা হোক।’ ব্যস, এই নিয়ে তর্কাতর্কি করতে করতে শেষমেষ কোনো খেলাই আর মাঠে গড়াতো না। এই প্রতিবেদনটি লিখতে গিয়ে আজ মনে হচ্ছে যে, ‘ইশ, আগে যদি জানতাম, লেগ ক্রিকেট নামেও একটি খেলা পৃথিবীতে আছে, তাহলে শুধু শুধু ঐসব সোনালি বিকেলগুলোয় না খেলে ঘরে ফিরতে হতো না।’ এখন বলতে পারেন, ‘লেগ ক্রিকেট আবার কি জিনিস? এতোদিন ধরে খেলার খবর রাখছি, কই আমি তো কোনোদিনও এর নাম শুনিনি।’ অবশ্য না জানাটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খেলাটি নতুন হলেও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল ,ভুটান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এমনকি ঘানা, ফ্লোরিডাতেও খেলাটি প্রায় এক দশক ধরে খেলাটি আয়োজিত হয়ে আসছে। তা কিভাবে খেলা হয় এই লেগ ক্রিকেট? কি বা এর নিয়ম? সেসব নিয়েই থাকছে অদ্যকার এই আয়োজন।

লেগ ক্রিকেটের জন্ম হয় ভারতের মহারাষ্ট্রে, ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যবর্তী কোনো সময়ে। রাজ্যটির আওরঙ্গবাদে অবস্থিত সেন্ট ফ্রান্সিস স্কুলের মাঠে সর্বপ্রথম খেলাটির পরিচয় করান স্থানীয় তরুণ মেথুল সোরাথিয়া। এরপর থেকে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজস্ব নিয়মে খেলাটি চলতে থাকে। তবে লেগ ক্রিকেটের জনপ্রিতাকে লক্ষ্য করে সেটিকে নিয়ে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে গবেষণা শুরু করেন দিল্লির শারীরিক শিক্ষক যোগিন্দর প্রসাদ ভার্মা। নিজের এই গবেষণার মাধ্যমেই ২০১০ সালে লেগ ক্রিকেটের আদর্শ নিয়ম-নীতি তৈরি করেন তিনি। এই নীতি অনুসারে লেগ ক্রিকেটে স্বাভাবিক ধারার ক্রিকেটের মতোই বোলার এবং ফিল্ডার থাকলেও চিরচেনা ব্যাটসম্যানদের দেখা এতে মিলবে না। তার বদলে স্ট্যাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে বলটিকে লাথি মারবেন একজন কিকার। সেই কিকারের অবশ্য গ্লাভস, প্যাড বা হেলমেট পরার কোনোরকম প্রয়োজন পড়ে না। এমনকি গোটা খেলাটিকে চালানোর জন্যও উপকরণ হিসেবে স্রেফ একখানা মাঠ, প্রমাণ সাইজের হ্যান্ডবল আর দুইজোড়া স্ট্যাম্প থাকলেই চলে।

লেগ ক্রিকেটে মাঠটি হয় ৮০ থেকে ১২০ ফুট ব্যাসার্ধের এবং পিচটি হয় প্রস্থে ৮ ফুট এবং দৈর্ঘ্যে ৪০-৪৮ ফুট লম্বা। যা মূলধারার ক্রিকেট মাঠের তুলনায় বেশ ছোট। আবার বয়সভেদে এই পরিমাপেও কিছু হেরফের হয়ে থাকে। ওহ, হ্যাঁ ! আরেকটা মজার ব্যাপার হচ্ছে, লেগ ক্রিকেটে আপনি কেবল মাত্র একটি পা-ই ব্যবহার করতে পারবেন। সেজন্য ব্যাটিং করার আগেই আপনাকে বোলার মহাশয়কে জানিয়ে নিতে হবে যে, আপনি কোন পায়ে খেলতে চলেছেন। কোনো কারণে ভুল পায়ে বল লাগলেই আপনি আউট। সেক্ষেত্রে পা না থাকলে বলটি স্ট্যাম্পে লাগতো কিনা সেটাও হিসাব করে দেখা হবে না। অন্যদিকে লেগ ক্রিকেটের বোলিং কায়দাটাও বেশ অদ্ভুত। আমাদের চিরচেনা ক্রিকেটে যেখানে রাউন্ডআর্ম (সোজা কথায় হাত ঘুরিয়ে) বোলিং করতে হয়, লেগ ক্রিকেটের জগতে সে ধরনের বোলিং পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ। ভুলেও যদি বলটি বাউন্স করে ব্যাটসম্যানের কাছে যায়, তাহলেই সেটি নো বল। এখানে বোলিং করতে হবে প্রাচীন আন্ডারআর্ম এ্যাকশনে। যেটি অনেকটা বোলিং খেলার মতো। তবে বোলাররা চাইলে নিয়মের মধ্যে থেকে সুইং বা স্পিন ডেলিভারি করতে পারবেন। এব্যাপারে ২০১৬ সালে ভারতীয় লেগ ক্রিকেট দলের দায়িত্ব পাওয়া চন্দন একবার বলেছিলেন, ‘(লেগ ক্রিকেটের) অনুশীলনে ফিল্ডিংয়ের কসরতগুলো নেওয়া হয়েছে ক্রিকেট থেকে। ফিটনেস এবং লাথি মারার কৌশল ফুটবল থেকে নেওয়া।’ যে কারণে লেগ ক্রিকেটে অংশ নেওয়ার অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে আপনাকে শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট থাকতে হবে।

আবার ঐতিহ্যবাহী ক্রিকেটের মতো করে এখানে ‘ফিল্ড সেটাপের’ ক্ষেত্রেও কোনোরকম বাধ্যবাধকতা নেই। অধিনায়কের ইচ্ছা হলে, তিনি নয়জন ফিল্ডারকেই পাশাপাশি দাঁড়া করাতে পারেন। এছাড়া লেগ ক্রিকেটে টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টির মতো একাধিক ফর্ম্যাটের প্রচলন নেই। সেখানে শুধুমাত্র টি-টেন ফর্ম্যাটেই (দশ ওভারে) খেলা হয়ে থাকে। আরো একটি অবাক করার মতো ব্যাপার হচ্ছে, আইসিসির মতো করে লেগ ক্রিকেটেও আইএলসিসি নামের একটি অভিভাবক সংস্থা রয়েছে যারা খেলাটির বিভিন্ন দিকের ব্যাপারে দেখা-শোনা করছেন।

আগেই বলেছিলাম, বর্তমানে লেগ ক্রিকেটের প্রসার কেবলমাত্র কোনো একটি দেশের মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই। ২০১৩ সাল থেকেই লেগ ক্রিকেটাররা নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে আসছেন। আবার, ইদানিং ভারতের কয়েকটি রাজ্যের মেয়েরাও খেলাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তবে নতুন খেলা হিসেবে এর বেশকিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অনেক ক্রিকেটপ্রেমি ক্রিকেটের এরূপ পরিবর্তনকে ভালোভাবে দেখতে পারছেন না। তাছাড়া লেগ ক্রিকেটকে এখনো পর্যন্ত কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। যেকারণে ম্যাচ আয়োজন থেকে শুরু করে যাতায়াতের খরচের সবটাই খেলোয়াড়দের নিজের পকেট থেকে দিতে হচ্ছে। অবশ্য খেলাটির সংগঠকদের প্রত্যাশা যে, দ্রুতই লেগ ক্রিকেট পেশাদারিত্বের পর্যায়ে চলে যাবে এবং সেখানেও বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টের আয়োজন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *