মাশরাফির পূর্বে দেশসেরা পেসার ছিলেন এই তাপস বৈশ্য

ফিচার

টেস্ট স্ট্যাটাসের পর যখন মাশরাফি ছাড়া বলার মতো কোন পেসার ছিলো না তখন আবির্ভাব হয় সিলেটের এক পেসারের। দেশের অবস্থার কথা চিন্তা করলে মোটামোটি ভালো বোলারই ছিলেন তিনি। যদিও দুর্ভাগ্যবশত ক্যারিয়ারের স্থায়ীত্ব ছিলো মাত্র পাঁচ বছর। বলছিলাম তাপস কুমার বৈশ্যের কথা।

বাংলাদেশের ক্রিকেট দর্শকদের কাছে তিনি তাপস বৈশ্য নামেই পরিচিত। ১৯৮২ সালের আজকের এইদিনে সিলেট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তাপস কুমার বৈশ্য। ডান হাতি ফাস্ট মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। তবে মাঝে মাঝে ভালোই ব্যাট চালাতেন। ক্যারিয়ার জুড়ে রয়েছে দুটি টেস্ট ফিফটি।

২০০২ সালের ২৮ জুলাই শ্রীলংকার বিপক্ষে সিংহলিজ স্পোর্টিস ক্লাব স্টেডিয়ামে সাদা পোষাকে অভিষেক হয় তাপসের। ওই সিরিজেই এবং একই মাঠেই ৪ আগস্ট শ্রীলংকা বিপক্ষে লাল সবুজের জার্সিতে অভিষেক হয় এই পেসারের।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ২০০৫ সালের পর আর সাদা পোষাকে দেখা যায় নি এই পেসারকে। ৩ জুন রিভারসাইড গ্রাউন্ড স্টেডিয়ামে খেলা টেস্টই ছিলো তার ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট। এর পর আর দলে জায়গা করে নিতে পারেননি তিনি।ওই সিরিজটিই ছিলো রাজীব মুশফিকদের অভিষেক সিরিজ।

২০০২ থেকে ২০০৫, খেলেছেন ২১ টেস্ট,বল হাতে নিয়েছেন ২৯ ইনিংস। ২৯ ইনিংসে ৩.৮ ইকোনমিতে নেন ৩৬ টি উইকেট। এভারেজ ৫৯.৩৬ ;ক্যারিয়ারে ৫ উইকেট পাননি।তবে ৪ উইকেট পেয়েছেন একবার। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ৭২/৪ আর ম্যাচ সেরা বোলিং ১১৭/৬,মেইডেন ওভার ৯৩ টি। লোয়ার অর্ডারে মাশরাফি ( মাঝে মাঝে শাহাদাত) ছাড়া বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ। তবুও এতোটা খারাপ ছিলেন না তিনি।

২১ টেস্টে ৪০ ইনিংসে ১১.২৯ গড়ে ৩৮৪ রান করেন; ক্যারিয়ারে রয়েছে ২ টি অর্ধশতক। সর্বোচ্চ ৬৬; ১০ নাম্বার পজিশনে আবুল হাসান রাজুর সেঞ্চুরির আগে ওই পজিশনে সর্বোচ্চ রান ছিলো তাপসের। ফিল্ডার হিসেবে নেন ৬ টি ক্যাচ।

২০০২ সালে ওডিআই অভিষেক হলেও ক্যারিয়ার থেমে যায় ২০০৭ বিশ্বকাপে। সুপার এইট পর্বে ভিভ রিচার্ডস মাঠে শেষ ওডিআই খেলেন, বিপক্ষ ছিলো অস্ট্রেলিয়া।

এর পর লাল সবুজের জার্সি আর গায়ে তুলতে পারেননি। এই ফরম্যাটে ৫৬ ম্যাচে ৫৬ ইনিংসে বল হাতে নিয়ে ৫.৬৪ ইকোনমিতে ৫৯ টি উইকেট নেন,এভারেজ ৪৪.২। মেইডেন ওভার ছিলো ১৮ টি। ক্যারিয়ার জুড়ে এই ফরম্যাটে ৫ উইকেট না থাকলেও ৪ উইকেট পেয়েছেন ২ বার। বেষ্ট বোলিং ফিগার ছিল ১৬ রানে ৪ উইকেটে। ৫৬ ম্যাচে ৪১ ইনিংসে ব্যাট হাতে ১২.০০ গড়ে ৩৩৬ রান করেন তাপস,সর্বোচ্চ ৩৫*। ফিল্ডার হিসেবে নিয়েছেন ৮ টি ক্যাচ।

২০০৮ সালে বিদ্রোহী ক্রিকেট লীগ আইসিএলে যাওয়ার পর ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন, তারপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও আর দলে ফিরতে পারেননি।তবুও ঘরোয়া লীগ গুলোতে নিয়মিতই খেলে যাচ্ছেন এবং পারফর্ম করছেন মোটামুটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *