তামিমের ৬ রানের আক্ষেপ; টাইগারদের বড় জয়

বাংলাদেশ ক্রিকেট

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সাকিব-হাসানদের বোলিং তোপে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ১২২ রানেই গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে অর্ধশতক হাঁকানোর আক্ষেপ থাকা তামিমের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৬ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। ফলে দারুণ জয়ে বিশ্বকাপ সুপার লিগে যাত্রা শুরু করলো টাইগাররা।


বাংলাদেশের হয়ে রান তাড়া করতে নামেন লিটন দাস ও তামিম ইকবাল। শুরু থেকেই দেখে খেলতে থাকেন দুজন। উদ্বোধনী জুটিতে তাড়া যোগ করেন ৪৭ রান। বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ১৪ করেন লিটন। তিনে নামা শান্ত ১ রানের বেশি করতে পারেননি। দুজনকেই আউট করেন আকিল হোসেন। 

এরপর সাকিবকে তামিম দারুণ খেলতে থাকলেও ৬ রানের আক্ষেপ নিয়ে ফিরেন তামিম। অর্ধশতক হাঁকানোর আগে তামিম ফিরেছেন ৬৯ বলে ৪৪ রান করে। এরপর ৪৩ বলে ১৯ রান করে ফিরেন সাকিবও। শেষ পর্যন্ত মুশফিকের অপরাজিত ১৯ রানের সুবাদে জয় পায় বাংলাদেশ।

এর আগে মিরপুরে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারে রুবেল হোসেনকে ছক্কা মেরে শুরু করেছিলেন সুনিল আম্রিস। মোস্তাফিজের দ্বিতীয় ওভারেই কাটা পড়েন তিনি। বল ভেতরে ঢোকানো নিয়ে অনেকদিন থেকেই কাজ করছিলেন মোস্তাফিজ। সেই কাজের ফল কিছুটা পাওয়া গেল। ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে ভেতরে ঢোকা বলেই এলবিডব্লিউ বানালেন তিনি।

এরপর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে প্রায় এক ঘন্টা। কিন্তু কোন ওভার কাটা যায়নি। শুরুর পরই আবার সাফল্য আনেন মোস্তাফিজ। তার বেরিয়ে যাওয়া বলে ড্রাইভ করতে গিয়েছিলেন জশুয়া ডি সিলভা। দ্বিতীয় স্লিপে লাফিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ জমান লিটন দাস।

২৪ রানে ২ উইকেট পড়ার পর ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা চালিয়েছিলেন আন্দ্রে ম্যাকার্থি আর জেসন মোহাম্মদ। কিন্তু ব্যাট বল লাগাতেই যেন ধুঁকছিলেন তারা। রান আনতে খেটে মরেছেন। ২১ রান যোগ করে অবশেষে থামেন মন্থর জুটি। ১৫ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে নিজের দ্বিতীয় ওভারে ম্যাকার্থিকে বোল্ড করেন। সাকিবের বলে সুইপ করার বিলাসিতায় ৩৪ বলে ১২ করে থামেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান।

খানিক পর জেসনও থামান সংগ্রাম। সাকিবের বলে ডিফেন্স করতে গিয়েই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে যায় তার পা। বল মিস করায় মুশফিক দ্রুত তা ধরে ভেঙ্গে দেন স্টাম্প। পরের ওভারে সাকিব ধরেন আরেক শিকার। এবার নিকারুমাহ বোনারকে এলবিডব্লিউ বানিয়ে ক্যারিবিয়ান ইনিংস অর্ধেক শেষ করে দেন তিনি। মাত্র ৫৬ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে তারা।

এরপরই প্রতিরোধ গড়েন কাইল মায়ার্স-রোবম্যান পাওয়েল। ক্যারিবিয়ানদের এই দলে মোটামুটি নামকরা পাওয়েলই। তার কারণও বোঝান নেমেই। মিরাজকে ছক্কায় উড়িয়ে শুরু। অন্য প্রান্তে অভিষিক্ত মায়ার্সও পান ছন্দ। দুজনে মিলে ৬ষ্ঠ উইকেটে আনেন ৫৯। সেটাই তাদের সবচেয়ে বড় জুটি। মিরাজকে ঘুরিয়ে চায়, হাসান মাহমুদকে দারুণ দুই বাউন্ডারিতে মায়ার্স বুঝিয়ে দেন ব্যাট হাতে পটু তিনি।

অভিষেকের স্নায়ুচাপে শুরুতে কিছুটা ভুগেছেন হাসান। নিজের পঞ্চম ওভারেই পেয়ে যান তাল। গুরুত্বপূর্ণ এই জুটি ভাঙ্গেন তিনি। পাওয়ালকে দারুণ এক ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান। ওই ওভারেই ফেরান রেমন রেইফারকে। তবে হাসানের বলে রেইফার কিছুটা দুর্ভাগা ভাবতে পারেন নিজেকে। আগেই দুটি রিভিউ শেষ হয়ে যাওয়ায় এলবিডব্লিউর আউট চ্যালেঞ্জ করতে পারেননি সফরকারীরা। বল ট্রাকিং টেকনোলজি জানান দেয় রিভিউ হাতে থাকলে বেঁচে যেতেন রেইফার।

পরের ওভারেই বিদায় নেন মায়ার্স। ৫৬ বলে ৪০ করা এই বাঁহাতি মিরাজের বলে ক্যাচ দেন স্লিপ্লে। টপ অর্ডার, মিডল অর্ডার যেখানে পারেনি। টেল এন্ডার থেকে আর কোন প্রতিরোধও গড়তে পারেননি কেউ। ফলে ১২২ রানেই শেষ হয় ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস। যা বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন সংগ্রহ। এর চাইতে কমে ৬১ রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড আছে ক্যারিবিয়ানদের।

মাত্র ৮ রান দিয়েই ৪ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। ২৮ রানে ৩ উইকেট তুলেন হাসান। মোস্তাফিজ ২০ রান দিয়ে আউট করেন দুই ওপেনারকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১২২/১০ (৩২.২ ওভার)
মায়ার্স ৪০, পাওয়েল ২৮
মোস্তাফিজ ২/২০, হাসান ৩/২৮, সাকিব ৪/৮, মিরাজ ১/২৯

বাংলাদেশ ১২৫/৪(৩৩.৫)
তামিম ৪৪, মুশফিক ১৯*
আকেলা ৩/২৬, জেসন ১/১৯

ফল: ৬ উইকেটে জয়ী বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *