সাকিব ইস্যুতে এবার বোমা ফাটালেন পাপন

বাংলাদেশ ক্রিকেট

সম্প্রতি এক অনলাইন গণমাধ্যমের ফেইসবুক লাইভে সাকিব আল হাসানের একটি সাক্ষাৎকার নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। বিসিবির দুই পরিচালককের নাম নিয়ে সাকিব সমালোচনা করলেও প্রশংসা করেছেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের। দেশের খেলার সময় সাকিবের আইপিএল বেছে নেওয়া, বোর্ডকে নিয়ে গণমাধ্যমে সমালোচনা, টেস্ট খেলতে চাওয়া-না চাওয়া নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন বিসিবি সভাপতি।


প্রথমেই সাকিব ইস্যুতে বিসিবির অবস্থানটা জানতে চাইছি, আপনারা বিষয়টা কীভাবে দেখছেন?

নাজমুল হাসান পাপন: আমাকে ওরা (আকরাম খান, নাঈমুর রহমান দুর্জয়) কাল বলেছে। তবে আমি নিজে ওটা দেখিনি, শুনিনি, পড়িনি। আমি ওদের নিউজিল্যান্ড (সিরিজ) নিয়ে ডেকেছিলাম। ওরা বলছে যে সাকিব এটা বলছে, ওটা বলছে। আমি বললাম নিউজিল্যান্ড ছাড়া এখন আমার মাথায় কিছু নেই। ম্যাচটা (দ্বিতীয় ওয়ানডে) শেষ হোক তারপর। ওদের কাছ থেকে শুনলাম। দুর্জয় বলছে, এইচপির পারফরম্যান্স নিয়ে নাকি কথা বলেছে। আমি দুর্জয়কে বললাম দেখ, ‘তোমার এইচপি কেমন খেলছে আমিও জানি, তুমিও জান। তোমার এইচপির খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ হয়।’ এই মাহমুদুল হাসান জয়, তৌহিদ হৃদয় এদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলি, খোঁজ খবর নেই। নতুন যে ছেলেটা স্পিন বল করল (তানভীর ইসলাম) ওর নম্বরটা চেয়েছি। আমার তো যোগাযোগ আছে। পাইপলাইনে খেলোয়াড় আছে, আয়ারল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করল। বাইরে খেলতে যাচ্ছে, ভালো করছে। খেলোয়াড় নিয়ে তো সমস্যা নেই। কে বলল, কী বলল এটা নিয়ে মাথা ঘামানোর কি আছে। আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

সাকিব বলেছে আমি চিঠিতে তো টেস্ট খেলব না এরকম বলিনি, বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য আইপিএল খেলতে চাই

নাজমুল: এর আগেও সে চিঠি দিয়েছিল সে টেস্ট খেলতে চায় না। আমাকে চিঠি দিয়েছিল আগে, সে টেস্ট খেলবে না। আপনি জানেন কীনা জানি না (২০১৭ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে)। আমার কথা হলো জাতীয় দলের খেলা থাকলে কোন খেলোয়াড় ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যেতে পারে না বা যাওয়ার কথা না এজন্য বলা হয়েছে বোর্ডের অনুমতি নাও। এটা কিন্তু আইসিসিতে করা হয়েছিল এই কারণে। ও আমাকে ফোন করে বলেছে যে আইপিএল খেলতে চায়। আমি বললাম, ‘তুমি এটা কি বল? আমার শ্রীলঙ্কা (সিরিজ), আমরা এখন এত খারাপ খেলছি টেস্ট। তোমাকে তো পেলাম না গত কদিন। ভারতে পেলাম না, পাকিস্তানে পেলাম না, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গেও পেলাম না। সেই জায়গায় এখন আরেকটা সিরিজ আছে এখানে তোমাকে কীভাবে অনুমতি দেই?’ তো ওর কথা শুনে মনে হলো যে ও যাবেই। তখন হঠাৎ করে আমার মনে হলো ঠিকাছে জোর করে তো খেলিয়ে লাভ নেই। তারপরে বললাম, ‘চিঠি দাও।’ চিঠি দিয়েছে। বোর্ডের অনেকেই রাজী ছিল না। আমিই বলেছি না দিয়ে দাও (অনুমতি)। দিয়ে দিছে। এখানেই তো শেষ। ওই সিরিজে যাওয়া, না যাওয়া ওখানেই শেষ। এরপর তো আমি আর কথাও বলিনি। আমি একটা কথা বলেছিলাম কে কোন ফরম্যাট খেলতে চায় এটা আমরা মে-জুন মাসের মধ্যে জেনে নিতে চাই।

এইগুলো খুবই অপ্রত্যাশিত (না খেলা) আমার কাছে। এইগুলো যদি আগে জানতে পারি (কে কোন সিরিজে খেলবে না) তাহলে প্রস্তুতি নিতে পারি। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের আগে যখন ও প্রথম যখন বলল যেতে চায় না। তখন একটা ধাক্কা খেলাম। আমার তো একটা খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। এটা জানলে তো আমাকে আগে দু’একটা খেলোয়াড়কে খেলানো উচিত ছিল। তারপর ভারতে যাওয়ার আগে যখন শুনলাম ও নিষিদ্ধ তখন একটা ধাক্কা খেলাম। এখন নিউজিল্যান্ডে গিয়ে তামিম বলছে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে না। এইগুলো আগে আমাদের জানালে অসুবিধাটা কি?

এসব ব্যাপারে অফিসিয়ালি কোন ব্যবস্থা নেওয়ার আছে কিনা আপনাদের?

নাজমুল: আমার কথাটা শুনেন। আমাকে নিয়ে কে বলবে সেটা আমি চিন্তাও করি না। আমি যদি ভুল করি বলবে। আমি যদি ভাল করি আরেকজনের কাছে ভাল নাও লাগতে পারে। খারাপ হতে পারে। সেটা ভিন্ন ব্যাপার। আমার কথা হচ্ছে ও একজন জাতীয় দলের খেলোয়াড়। সেরা খেলোয়াড়। অন্যতম সেরাও না, একদম সেরা। ও তো অধিনায়কও ছিল। সিনিয়র কোন খেলোয়াড় সম্পর্কে বলা যে আগে অধিনায়ক ছিল…(আকরাম খান)। নিয়ম অনুযায়ী তো কথাই বলতে পারে না। চুক্তিপত্রে পরিষ্কার যেটা আছে বোর্ড নিয়ে, বোর্ডের সদস্য নিয়ে কিচ্ছু বলতে পারবে না। প্রত্যেকটা পয়েন্ট বাই পয়েন্ট লেখা আছে। এটা হলো নিয়মের কথা। কিন্তু একজন ব্যক্তি হিসেবে নূন্যতম সম্মান তো সিনিয়রদের প্রতি থাকা উচিত। অন্তত আকরাম খান, দুর্জয় এদের মতো খেলোয়াড় নিয়ে কেন বলতে যাব একটা খেলোয়াড় হয়ে। মানে বেশি ভালো খেললে বলতে হবে অন্যদেরকে? ওর যদি কিছু বলার থাকে তাহলে প্রস্তাব দিতে পারে (কি করলে ভালো হয় ইত্যাদি)। এই দিক দিয়ে এটা আমার কাছে খারাপ লেগেছে ওদের আমরা এত যত্ন করি। এখন ওরা যদি সিনিয়রদের সম্পর্কে এভাবে বলে। সাবেক অধিনায়ক তারা। তাদের কি কোন অবদান নেই? এদের সম্পর্কে এভাবে মিডিয়াতে বলে দিবে? এটা কি শোভন? এটা কি হলো?

এইগুলোর জন্য আপনারা কি কোন শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা নিতে যাবেন?

নাজমুল: আমাদের কাছে তো তারা (ক্রিকেটাররা) লিখিত দিয়েছে যে এইগুলা বলা নিষেধ, সম্মতি দিয়ে তো সই করেছে। তারপরও বলে। কেন বলে এটাই তো জানি না। কেন হঠাৎ করে বলে। কোন কারণে ও কি করে এগুলো বুঝতেও তো সময় লাগে। কয়েকটা দিন যাক। সামনে কি আছে জানি না। আমার মতে এসব কথা আসার কারণই নাই। এখানটায় আইপিএল নিয়ে (দেশের খেলা ফেলে সাকিবের আইপিএলে যাওয়া) বেশিরভাগ মানুষ অপছন্দ করেছে। বিশেষ করে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। ক্রিকেটের বাইরে অনেকে আবার এটাকে সমর্থনও করেছে। ঠিকাছে ভালো।

অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, ‘আপনি যেতে দিলেন কেন?’ আমি পরিষ্কার বলে দিয়েছি জোর করে খেলাব না। কে কোন ফরম্যাট খেলতে চায় না সেটা আমি আগেভাগে জানতে চাই। শুধু সাকিব না। অন্য যে কারো বেলায়ও হতেও পারে। আমি এভাবে সারপ্রাইজড হতে চাই না। কেউ যদি কোন ফরম্যাট খেলতে না চায় আগেই জানিয়ে দিবে।

বিকল্প তৈরি নিয়ে আপনাদের ভাবনা…

অনেকে প্রশ্ন তুলেছে এই যে হাসান মাহমুদ এই বাচ্চা ছেলেটা নতুন এসেছে, ওকে নামালো, এত মার খেল। আরে মার তো খেতেই পারে। নতুন একটি ছেলে নিউজিল্যান্ড প্রথম খেলছে জাতীয় দলের হয়ে। মার খেতেই পারে। এখন যারা সুপারস্টার প্রথমদিকে সবাই ভুগেছে। আমাদের তো সুযোগ দিতে হবে তো। আমাদের আরও ছেলে আছে না। ওদের সুযোগ দিতে হবে। এই যে শেখ মেহেদী ও সাহস করে খেলেছে। ব্যাটিংয়েও অ্যাটিচুড দেখিয়েছে। এইগুলাই তো আমাদের পছন্দ। খারাপ কাউকে তো আমরা নিচ্ছি না। কিন্তু ওদের সুযোগ দিতে হবে। এক দেড় বছর সুযোগ দিলে ভাল করবে। আমাদের কাছে বহু ছেলে আছে তৈরি করতে পারব। একটা শেষ উদাহরণ দেই- লিটন দাস। যখন (চণ্ডিকা) হাথুরুসিংহে ওকে খেলার সুযোগ দিল, তখন পারছিল না। দেশের মানুষ তো ওকে একদম ধুয়ে রাখে না, ‘কেন ওকে সুযোগ দিল, কেন এত মাথায় তুলছে, এই সেই।’ এখন লিটন আমাদের মূল ওপেনার। আমি তো বলব সেরা পারফর্মার যদি কেউ থাকে এখন সেটা লিটন দাস। এমনকি টেস্টে ছয়-সাতে ও যেমন খেলে সুন্দর পারফর্ম করছে। সুযোগ পেয়েছে দুই বছর পর পারফর্ম করা শুরু করেছে। অন্যরাও করবে। এখন আমরা যদি কাউকে বাদ দিতে চাই নতুন ছেলে ঢুকাই তাহলে বলবে ‘এই ওরে বাদ দিছে কেন?’ যদি খেলার ইচ্ছা না থাকে আগে থেকে জানাক। আমরা নতুন ছেলে তৈরি করছি।

তারা (সাকিবরা) অনেক বড় খেলোয়াড়। কিন্তু একদিনে সব হয়নি। এই যে আকরাম, সুজন, নান্নু, বুলবুল, সুমন এদেরকে ছোট করে দেখার কোন মানে হয় না। এদের যদি সম্মান না করে তাহলে অন্যরা তাদের (সাকিবদের) কি করবে বলেন? যাই হোক, ফোন করে বলতে পারত, ‘আকরাম ভাই এটা বললেন কেন?’ আমাকেও বলতে পারে। ওর যদি এইচপি নিয়ে কোন পরামর্শ থাকে তাহলে দুর্জয়কে ফোন করে বলতে পারে। কিন্তু খামাখা এইসব (সমালোচনা) কেন?

আমি আগেও বলেছি আইপিএলে যারা যেতে চায় আমি যেতে দেব। আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে- একদিকে টিভিতে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড খেলা হচ্ছে। আরেকদিকে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া হচ্ছে ফাইনাল। আমি কি দেখব? আমি তো বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড দেখব। আমার কাছে এটাই গুরুত্বপূর্ণ। আইপিএলের ব্যাপারে আমি যদি হতাম, দেশের খেলার আগে আমার কাছে কোন টুর্নামেন্টই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। এটা কেউ না বুঝলে করার কিছু নাই। ও যে বলছে (আইপিএল খেলার কথা) সেটাই অনেক। আমি হলে তো চিন্তাও করতে পারতাম না।

আকরাম বলেছেন সাকিবের এনওসি পুনর্বিবেচনা করে দেখবেন, এই ব্যাপারে আপনারা কি নতুন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন?

নাজমুল: আসলে ও (আকরাম) খুব কষ্ট পেয়েছে। ওর একটা ভাবমূর্তি আছে বাংলাদেশ। সাকিব এখন সুপারস্টার। তার আগে আকরাম এরকম সুপারস্টার ছিল। এখনো মানুষ ওকে সম্মান করে। আরে ভদ্র ছেলে। ও খুব শকড, বলছে, ‘আমাকে নাম ধরে বলবে, ওদের জন্য কত কিছু করেছি। যখন যা চায় তাই চেষ্টা করেছি।’ দুর্জয় বলছে, ‘আরে এত ভাল কাজ করছি, এখন সাকিব এসে পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলে।’ ওদের জন্য কষ্ট লাগারই কথা। আমি ওদের বলেছি, ‘এখন ভুলে যাও, পরে দেখব, এখন বাংলাদেশ দল নিউজিল্যান্ডে আছে, ওদের সঙ্গে কথা বল, ওদের সাহস দাও।’

এই মুহূর্তে কিছু বলার নেই। কিছু করারও নেই (কোন ব্যবস্থা)। আমাকেও বুঝতে হবে কেন করল। অপেক্ষা করতে বলেছি সবাইকে। সময়টা দেখেন আপনি বাংলাদেশ দল হারার পর পর এমন বলল। এখন তো সে খেলোয়াড়দের ফোন করে সাহস দিবে, পরামর্শ দিবে তা না করে…

এই ব্যাপারে সাকিবের সঙ্গে কি আলাপ করবেন?

নাজমুল: আমি চাই না। ও নিজে থেকে যোগাযোগ না করলে আমি কথাও বলব না। আমার অনেক কাজ আছে, ব্যস্ততা আছে বাংলাদেশ দল নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *