অভিষেকেই দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড; মৃত বাবাকে উৎসর্গ করে দুই ভাইয়ের কান্না (ভিডিও)

ক্রিকেট

ভারতের হয়ে সব ফরম্যাটে বেশ আগে থেকেই খেলেন হার্দিক পান্ডিয়া। কিন্তু তার ভাই ক্রুণাল পান্ডিয়াকে দেখা যেত শুধু টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। দুই ভাই একসাথে খেলেছেন কেবল ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণেই। তবে আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছে ক্রুণালের। আর অভিষেকেই ঝড় তুলে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েছেন তিনি। রেকর্ড গড়া এই ইনিংসটি কদিন আগে পরপারে পাড়ি জমানো বাবাকে উৎসর্গ করেন ক্রুণাল পান্ডিয়া। এমন অর্জনের দিনে আবেগঘন হয়ে পড়েন তিনি। এক সময় দুই ভাই হার্দিককে জড়িয়ে ধরে তাকে কাঁদতেও দেখা যায়।


পুনেতে প্রথম ওয়ানডেতে ইংল্যান্ড দলের প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। ওপেনার শিখর ধাওয়ানের অসাধারণ ৯৮ রানের ইনিংস এবং বিরাট কোহলির ৫৬ রানের ইনিংসে ভর করে ভারত বড় রানের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছিল। এমন সময়ে প্রথমে কোহলি, তারপর ধাওয়ান এবং হার্দিকের উইকেট পরপর অল্প রানের ব্যবধানে হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত।

ফলে মনে হচ্ছিল হয়ত ৩০০ রানের গন্ডিও পার করতে পারবেন না বিরাটরা। তবে এমন সময় সকল আশঙ্কা দূর করে দিয়ে লোকেশ রাহুলের সাথে জুটি বেঁধে ভারতের জার্সিতে অভিষেক ম্যাচেই বিধ্বংসী ফর্মে খেলা শুরু করেন ক্রুনাল। ৩১ বলে ৫৮ রানের এক অনবদ্য অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। রাহুলের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে জুটি বেঁধে ১১২ রান করে ভারতের স্কোর পৌঁছে দেন ৩১৭ রানে।

ক্রুণাল মাত্র ২৬ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেন। অভিষেককারী কোনও ব্যাটসম্যানের ওয়ানডে ক্রিকেটে এটিই দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরি।


আর ওয়ান ডে অভিষেকে অসাধারণ ইনিংস খেলে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথেই ভাই হার্দিককে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় ক্রুনালকে। তাঁর অসাধারণ এই ইনিংস তিনি তার স্বর্গীয় বাবার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন।

পরবর্তীতে দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পর ক্রুণালের অনুভূতি জানার জন্য তাঁকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে আসেন ধারাভাষ্যকাররা। কিন্তু সেই সময় কিছু বলতে পারেননি ক্রুণাল। আবেগে কথা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এই বাঁ হাতি অলরাউন্ডারের। যার জেরে সাক্ষাৎকার পর্ব ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন ক্রুণাল।

প্রসঙ্গত, বরোদার হয়ে বিজয় হাজারে ট্রফিতে ব্যস্ত থাকার মাঝেই নিজের বাবাকে হারিয়েছিলেন পান্ডিয়া ভাতৃদ্বয়। ফলে সেইসময় বায়ো বাবল ছেড়ে ক্রুণালকে ফিরে আসতে হয়েছিল তাদের বাড়িতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *