এশিয়ার প্রথম দল হিসেবে প্রোটিয়াদের মাটিতে অনন্য রেকর্ড গড়ল পাকিস্তান

ক্রিকেট

তিন ম্যাচ সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচে পাকিস্তান ১, দক্ষিণ আফ্রিকা ১। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ যাকে বলা হয় অলিখিত ফাইনাল, সেখানেই নেই প্রোটিয়াদের তারকা রাবাদা-মিলাররা। এতেই অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেছিল পাকিস্তানের সিরিজ জয়। হয়েছেও সেটিই। শেষ ম্যাচটিতে স্বাগতিকদের ২৮ রানে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে সফরকারীরা।


সেঞ্চুরিয়নে আগে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ৩২০ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। জবাবে নির্ধারিত ৫০ ওভারের ৩ বল আগেই ২৯২ রানে অলআউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

এই সিরিজ জয়ে এশিয়ার প্রথম দল হিসেবে প্রোটিয়াদের মাটিতে একাধিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়েছে বাবর আজমের দল। এর আগে ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ওয়ানডে সিরিজে হারিয়েছিল পাকিস্তান। সে সময় পাকিস্তানের অধিনায়ক ছিলেন মিসবাহ উল হক। আর এই সফরে পাকিস্তানের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মিসবাহ।

বড় রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা মন্দ হয়নি প্রোটিয়াদের। ওপেনিংয়ে মালান-মার্করাম জুটিতে আসে ৫৪ রান। ১৮ রান করে মার্করাম ফিরলে ভাঙে জটি। এরপর ধারাবাহিকভাবেই উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। ইনিংসে ২৪ তম ওভারে মালানকে ৭০ ও বাভুমাকে ২০ রানে ফেরান নেওয়াজ। এতেই মনে হচ্ছিল সহজেই জিতবে পাকিস্তান।

কিন্তু ম্যাচ জমিয়ে তোলেন কাইল ভারানে ও ফেহলাকুয়াও। অসাধারণ ব্যাটিং করে দুজনেই তুলে নেন ফিফটি। কিন্তু দলকে জেতাতে ব্যর্থ হন তারা। রান রেটেে চাপে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে ৬২ রান করে ফেরেন ভারানে। ফেহলাকুয়াও করেন ৫৪ রান। এরপর আর তেমন কেউ দাঁড়াতে না পারলে ২৯২ রানেই থামে প্রোটিয়াদের ইনিংস।

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে আবারো পাকিস্তান দারুণ সুচনা এনে দেন দুই ওপেনার ইমাম উল হক ও ফখর জামান। ১১২ রানে জুটির পর ৫৭ রান করে ফেরেন ইমাম। অসাধারণ ব্যাটিংয়ে এদিনও সেঞ্চুরি তুলে নেন ফখর জামান৷ ১০৪ বলে ১০১ রানের দারুণ ইনিংস উপহার দেন তিনি।

গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জ্বলে উঠেন অধিনায়ক বাবর আজমও। ফিফটি করে শতকের দিকে এগুতে থাকেন তিনিও। কিন্তু সম্ভব হয়নি৷ ৬ রানের আক্ষেপ নিয়ে ৯৪ রান করে ফিরতে হয় তাকে। এরপর শেষদিকে হাসান আলীর ১১ বলে ৩২ রানে ঝড়ে ৩২০ রানের বিশাল পুঁজি পায় পাকিস্তান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ৩২০/৭( ফখর জামান ১০১, বাবর আজম ৯৪; মহারাজ ৩/৪৫, মার্করাম ২/৪৮)

দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪৯.৩ ওভারে ২৯২/১০( মালান ৭০, ভারানে ৬২; নওয়াজ ২/৩৪, আফ্রিদি ৩/৫৮)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *