প্রথম দেখাতেই ইতিহাস গড়ে গুরু ধোনিকে হারিয়ে দিলেন শিষ্য রিষাব পান্ত

আইপিএল

অনেকেই ভেবে পাচ্ছিলেন না মহেন্দ্র সিং ধোনির অবসরের পর কে ধরবেন ভারতের গ্লাভসের হাল। ধোনি নেই জাতীয় দলে, কিন্তু তার অভাব যেন অনুভবই হতে দেন না রিষাব পান্ত। আইপিএলে এবার শ্রেয়ার আয়ারের পরিবর্তে দিল্লির অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন পান্ত। আর অধিনায়কত্বের অভিষেক ম্যাচটা গুরু মাহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নায়ের বিপক্ষে। প্রথম ম্যাচেই গুরু-শিষ্যের এই লড়াই দেখতে মুখিয়ে ছিলেন অনেকেই। স্বয়ং ভারতীয় কোচও জানিয়েছিলেন সেই কথা। রোমাঞ্চকর এই লড়াইয়ে অধিনায়কত্বের অভিষেকে গুরুকে হারিয়ে দিয়েছেন শিষ পান্ত।


শনিবার আইপিএলের ১৪ তম আসরের দ্বিতীয় ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৮৮ রান সংগ্রহ করে চেন্নাই সুপার কিংস। জবাবে ৭ উইকেট ও ৮ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় দিল্লি ক্যাপিটালস। চেন্নাইয়ের বিপক্ষে এটি নিজেদের সর্বোচ্চ আর যে কোন দলের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড।

১৮৯ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে ওপেন করতে নেমে দারুণ সূচনা এনে দেন শেখর ধাওয়ান ও পৃথ্বী শ। ৩৮ রানে মঈন আলীর বলে স্যান্টনারের হাতে ক্যাচ দিয়েও জীবন পান পৃথ্বী। ৪৭ রানে আরও একবার জীবন পান পৃথ্বী শ, মঈন আলীর বলেই এবার ক্যাচ ফেলে দেন ঋতুরাজ গায়কোয়াদ।

দুইবার জীবন পেয়ে ২৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন শ, ৩৫ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন শেখর ধাওয়ানও। তৃতীয় বারের চেষ্টায় ৩৮ বলে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৭২ রান করা পৃথ্বী শকে ফেরানো গেলেও ততক্ষণে ওপেনিং জুটিতে ১৩৮ রান তুলে জয় অনেকটাই নিশ্চিত করেছে দিল্লি ক্যাপিটালস। চেন্নাইয়ের বিপক্ষে এটি কোন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটিতে রানের রেকর্ড, এর আগে সর্বোচ্চ ১৪৪ রানের ওপেনিং জুটি গড়েছিলো শেন ওয়াটসন ও আজিঙ্কা রাহানে।

শেখর ধাওয়ান ৫৪ বলে ৮৫ রান করে শারদুল ঠাকুরের বলে লেগ-বিফোর হয়ে যখন ফিরে যাচ্ছিলেন দিল্লি ক্যাপিটালস জয় থেকে সে সময় ২১ বলে ২২ রান দূরে দাঁড়িয়ে। ১৪ রান করে মারকুস স্টয়নিস ফিরলেও সহজ এই সমীকরণ খুব সহজেই মিলিয়েছেন অধিনায়ক রিশাভ পান্ত। উইকেটের পেছনে থাকা গুরুর সামনেই অসাধারণ এক বাউন্ডারিতে স্টাইল ফিনিশিংয়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো করতে পারেনি চেন্নাই সুপার কিংস, শূন্য হাতেই ফিরেন দলটির ওপেনার ফাফ ডু প্লেসিস। ঋতুরাজ গায়কোয়াদ ৬ রান করে ফিরলে ৭ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে চেন্নাই, সেখান থেকে দলকে চাপ মুক্ত করেন মঈন আলী ও সুরেশ রায়না।

তৃতীয় উইকেটে ৫৩ রান যোগ করেন মঈন-রায়না জুটি, ৩৬ রান করেন মঈন আলী। তবে চেন্নাই বড় সংগ্রহের ভিত্তি পায় সুরেশ রায়না ও আম্বাতি রাইডুর ৬৩ রানের জুটিতে, এক মৌসুম পর প্রত্যাবর্তন ম্যাচে ফিফটি পেয়েছেন রায়না; রাইডুর ব্যাট থেকে আসে ২৩ রানের ইনিংস।

মারকুস স্টয়নিসের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ফিফটি পূর্ণ করা সুরেশ রায়না ৩৬ বলে ৫৪ রান করে রান আউটে কাটা পড়েন। এবারের আইপিএলেও ব্যাট হাতে শুরুটা ভালো হয়নি চেন্নাই অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির, আভিশ খানের বলে ইনসাইডেজ হয়ে ২ বলে শূন্য রানে ফিরেন ধোনি। তবে শেষদিকে স্যাম কারানের ক্যামিওতে ২০ ওভারে ১৮৮ রানের লড়াইয়ের পুঁজি পায় চেন্নাই সুপার কিংস।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

চেন্নাই সুপার কিংস ১৮৮/৭ (মঈন আলী ৩৬, সুরেশ রায়না ৫৪, আম্বাতি রাইডু ২৩, রাবিন্দ্র জাদেজা ২৬*, স্যাম কারান ৩৪, ক্রিস ওকস ২/১৮, আভিশ খান ২/২৩)।

দিল্লি ক্যাপিটালস ১৯১/৩ (১৮.৪ ওভার; পৃথ্বী শ ৭২, শেখর ধাওয়ান ৮৫, রিশাভ পান্ত ১১*, মারকুস স্টয়নিস ১৪, শিমরন হেটমায়ার ৪*, শারদুল ঠাকুর ২/৫৩, মঈন আলী ১/২৪)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *