মেসিদের চোখের জলে শিরোপার আরো কাছে রিয়াল মাদ্রিদ

ক্লাব ফুটবল

চলতি মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ শেষ এল-ক্লাসিকোতে স্বস্তির জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠ আলফ্রেড ডি স্টেফানো স্টেডিয়ামে বার্সেলোনাকে ২-১ গোল ব্যবধানে হারিয়েছে জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা। এই জয়ে ৩০ ম্যাচে ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে লা-লীগার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। সমান ম্যাচে ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তিন নম্বরে বার্সেলোনা। এক ম্যাচ কম খেলা অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ রিয়ালের সমান ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিঁছিয়ে থেকে আছে তালিকার দুই নম্বরে।

ইতিহাসের ২৬৬ তম এল-ক্লাসিকোতে কিক অফরের শুরুতেই স্বাগতিকদের উপর চড়াও হতে শুরু করে বার্সেলোনা। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই গোলও পেতে পারতো সফরকারীরা। ডি বক্সের বাইরে থেকে লেফটব্যাক জর্দি আলবার উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে দেন লিওনেল মেসি৷ আলবা ক্রস দেন উসমান দেম্বেলেকে; বল পায়ে নিতে পারেনি দেম্বেলে। দারুণ দক্ষতায় বলে হাত লাগিয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে রক্ষা করেন গোলকিপার থিবো কর্তোয়া।

বার্সার অাধিপত্য ভেঙে ম্যাচের ১৩ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদকে এগিয়ে দেন করিম বেনজেমা। ফিরতি আক্রমণে বল পায়ে দুর্দান্ত এক দৌড়ে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়াস জুনিয়র পাস দেন ভালভার্দকে। ভালভার্দে থেকে অ্যাসেন্সিও; অ্যাসেন্সিও ক্রস দেন করিম বেনজেমাকে। দু’পায়ের দারুণ কারুকাজে দারুণ এক ফ্লিকে বার্সা গোলকিপার স্টেগানকে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ান এই ফরাসি স্ট্রাইকার। চলতি মৌসুমে লীগ ম্যাচে এটি ১৯ তম গোল। ২৩ গোল নিয়ে লীগের শীর্ষ গোলদাতা এখনও মেসি।

ম্যাচের ২৬ মিনিটের মাথায় আবারও সুযোগ আসে রিয়াল মাদ্রিদের সামনে। ডি বক্সের খুব কাছে ভিনিসিয়াসকে ফাউল করে বসেন আরাউহো, দেখেন হলুদ কার্ড। ফ্রি কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন টনি ক্রুস। ২২ গজ দূর থেকে নেয়া ফ্রি কিক গোলে টনি ক্রুসের অবদান যতটা, তার চেয়ে কম ব্যর্থতা নয় বার্সা খেলোয়াড়দের। টনি ক্রুসের নেয়া ফ্রি কিক সার্জিও ডেস্টের পিঠে লেগে জর্দি আলবা হেডে ক্লিয়ার না করতে পারলে বল জড়ায় জালে।

দ্বিতীয় গোলের মাত্র ৮ মিনিট পরই ব্যবধান ৩-০ করার সুযোগ পায় রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু ফেদ ভালভার্দের নেয়া জোরালো শট গোলবারে লেগে ফিরে আসে। লুকাস ভাস্কুজের ফিরতি শট অবশ্য স্টেগান ফিরিয়ে দেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দুই মিনিটে দু’টি সুযোগ তৈরি করেন বার্সা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। প্রথমটিতে, ডান কর্ণার থেকে নেয়া মেসির বাঁকানো শট (ব্যানানা কিক) গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর বাঁ কর্ণার থেকে দেম্বেলের নেয়া কর্ণার কিকে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা মেসি বল পেয়ে যান। তবে দারুণ দক্ষতায় মেসির শট ঠেকিয়ে বার্সা সমর্থকদের হতাশ করেন কর্তোয়া। ফলে ২-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।

বিরতি থেকে ফিরে ৬০ মিনিটে গোল ব্যবধান কমায় বার্সেলোনা। মেসি পাস দেন জর্দি আলবাকে। জর্দি আলবা ক্রস দেন ডি-বক্সে। গ্রিজম্যান লাফিয়ে উঠে বল ছেড়ে দিলে চলে যায় ফাঁকায় দাঁড়ানো অস্কার মিনগুয়েসার কাছে। মিনগুয়েসা ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান। এরপর দফায় দফায় চেষ্টা করেও আর কোন গোলের দেখা পায়নি কোন দলই। কার্যত, এগিয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ বেশিভাগ সময়ই চেপে রাখে বার্সেলোনাকে। ম্যাচে শেষ মিনিটে মিনগুয়েসাকে ফাউল করে জোড়া হলুদ কার্ডে লাল কার্ড দেখেন ক্যাসিমিরো।

শেষ বাঁশি বাজার আগে (৯০+৪ মিনিটে) নিজের প্রথম এল-ক্লাসিকো খেলতে নামা বার্সা মিডফিল্ডার মোরিবার জোরালো শট অল্পের জন্য জাল খুঁজে পায়নি। ফলে ২-১ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। বিপরীতে এই জয়ে বার্সালোনা ও অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদকে টপকে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *