বাবর আজমরা নাম্বার ওয়ান হয়; কিন্তু বিজয়রা কেন এভাবে হারিয়ে যায়..?

ফিচার বাংলাদেশ ক্রিকেট

দীর্ঘদিন ধরে ওয়ানডে ক্রিকেটের ব্যাটিং র‍্যাংকিংয়ে এক নম্বরে ছিলেন ভারতের বর্তমান অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তবে এবার তাকে পেছনে ফেললেন পাকিস্তানের বর্তমান অধিনায়ক বাবর আজম। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে পর বিরাট কোহলিকে সরিয়ে এখন এক নম্বরে অবস্থান করছেন পাকিস্তানের বর্তমান অধিনায়ক বাবর আজম।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ওয়ানডে ব্যাটিং র‍্যাংকিংয়ে ৮৬৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এক নম্বরে অবস্থান করছেন বাবর আজম। তার চেয়ে ৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে নেমে গেছেন কোহলি। পাকিস্তানের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বরে উঠলেন বাবর।

এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায় ২০১২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে খেলা বাবর আজম, দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেকা ডি ককদের টপকে আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন বাংলাদেশের এনামুল হক বিজয়।

সমানসংখ্যক ৬ ম্যাচে খেলে বাবরের চেয়ে ৭৮ রান বেশি করে বিজয় হয়েছিলেন বিশ্বকাপের সেরা রান সংগ্রাহক।
৬ ম্যাচে ৬০.৮৩ গড়ে বিজয় করেছিলেন ৩৬৫ রান। তার স্ট্রাইকরেট ছিল ৮৫.০৮। খেলেছিলেন ১২৮ রানের একটি ইনিংসও।

অন্যদিকে, রান তালিকায় দুইয়ে থাকা বাবরের সংগ্রহ ছিল ২৮৭ রান। তার গড় ছিল ৫৭.৪০ ও স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ৬৫.৫২।

২০১২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সেরা সাত রান সংগ্রাহক। ছবিঃ ক্রিকইনফো

এই তালিকায় ৪ নাম্বারে ছিলেন বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কক। তিনি করেছিলেন ২৮৪ রান। আর তালিকার ৭ নাম্বার পজিশনে ছিলেন বাংলাদেশের আরেক ব্যাটসম্যান লিটন দাশ। ৬ ম্যাচে লিটন করেছিল ২৬২ রান।

বিজয় পরে সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলেও। তবে ফর্মহীনতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে। শ্রীঘ্রই আবার ফেরার সুযোগ একেবারেই কম। এমনকি জাতীয় দলে আর ফিরতে পারেন কিনা সেটারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশের হয়ে মাত্র ৪টি টেস্ট (৭৩ রান) ৩২টি ওয়ানডে (১০৫২ রান) ও ১২টি টি-টোয়েন্টি (৩৫৫) ম্যাচ খেলে হারিয়ে গেছেন বিজয়।

আর লিটন সম্ভাবনা জাগালেও বিশ্ব ক্রিকেটে রাখতে পারননি তেমন কোন অবদান।

অন্যদিকে বাবর আজম এখন পাকিস্তানের তিন ফরম্যাটের অধিনায়ক। ওয়ানডেতে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটসম্যান, টেস্টে রয়েছেন সেরা ছয়ে আর টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় স্থানে। তিন ফরমেট মিলিয়ে বাবরের সেঞ্চুরি সংখ্যা ১৯ টি।

অথচ ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে বাবরের চেয়ে বিজয়কেই বেশি প্রতিভাবান মনে করা হতো। বাবর যেখানে বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করছেন তখন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমিরা ভুলতে বসেছে বিজয়ের নাম। প্রতিভার কি দারুণ অপচয়! কেন এভাবে হারিয়ে যায় বিজয়রা?

এর জন্য আসলে দায়ী কে? খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রম আর মনোযোগের অভাব নাকি বোর্ডের উদাসীনতা?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *