ইউরোপিয়ান সুপার লিগ; দ্য নেক্সট বিগ থিং ইন ফুটবল

ফুটবল

ইউরোপিয়ান ফুটবলে নতুনত্ব অনায়নের লক্ষে চলতি বছর থেকেই ইউরোপের বড় বড় কয়েকটি ক্লাবকে নিয়ে চালু হতে যাচ্ছে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ। ইতোমধ্যেই বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদ-ম্যানচেস্টার সিটির মতো নামীদামী ১২টি ক্লাব এই লিগে স্থায়ীভাবে খেলার ব্যাপারে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। গতকাল প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে এই লিগ আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে।

মূলত উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের বিকল্প হিসেবেই এই লিগকে দেখছেন অনেকেই। এরই মধ্যে সুপার লিগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট খোলা হয়েছে, চূড়ান্ত হয়েছে ফরম্যাটও। সর্বমোট ২০টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে এই আসর। ২০টি ক্লাব দুইটি গ্রুপে ভাগ হয়ে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে নিজেদের মধ্যে খেলবে। দুই গ্রুপ থেকে শির্ষ ছয়টি দল সরাসরি খেলবে কোয়ার্টার ফাইনালে, চতুর্থ ও পঞ্চম দল থেকে দুইটি দল প্লে অফ খেলে যোগ দেবে শেষ আটে। সেখানে দুই লেগের কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমি ফাইনাল শেষে হবে এক লেগের ফাইনাল।

সুপার লিগ কর্তৃক প্রকাশিত বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে ইতোমধ্যে ১২টি ক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে নাম লিখিয়েছে। এর সাথে আরও তিনটি বড় ক্লাবের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইউরোপিয়ান সুপার লিগে নাম লেখানো ১২টি ক্লাব হলো:

রিয়াল মাদ্রিদ
বার্সেলোনা
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ
ম্যান ইউনাইটেড

ম্যান সিটি
লিভারপুল
আর্সেনাল
টটেনহাম

চেলসি
জুভেন্টাস
ইন্টার মিলান
এসি মিলান।

এর বাইরে আরও আটটি ক্লাব যোগ দেবে মাঠের লড়াইয়ে। পিএসজি ও বায়ার্ন এখনো যোগ দেয়নি, তবে তাদের সঙ্গে শোনা যাচ্ছে লাইপজিগের নামও।  

মূলত বেশি অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের নামীদামী ক্লাবগুলো। নিজেদের মধ্যে যত বেশি ম্যাচের আয়োজন করা যাবে স্পন্সরশীপ আর টিভিস্বত্ত্বসহ আরও অনেক খাত থেকে আয়ের পরিমাণও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। আর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের জন্য থাকছে ৩.৫ বিলিয়ন ইউরোর লোভনীয় প্রস্তাবও। এত যে টাকার ঝনঝনানি সেটা আসছে কোথা থেকে? আমেরিকান ব্যাংক জেপি মর্গ্যান এর অর্থের যোগান দাতা হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে।

যদিও বৈশ্বিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং ইউরোপের ফুটবলের দেখভাল করা উয়েফা এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের একেবারেই বিপক্ষে। তারা বলছে এতে করে ফুটবলের জনপ্রিয়তাও কে যাবে সেই সাথে ছোট দলগুলো আরও বঞ্চিত হতে থাকবে।

এর আগে সুপার লিগের ব্যাপারে ফিফা জানিয়েছিল এই লিগে যোগ দেওয়া সব খেলোয়াড়কে জাতীয় দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। যদিও পরে তারা সুর নরম করে বলেছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। উয়েফা সরাসরি এই লিগের বিরুদ্ধে এবং এই লিগের সব দলকে উয়েফার সব প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। 

বলার অপেক্ষা রাখে না, এই লিগের জন্য আরও বেশি ধকল যাবে ফুটবলারদের ওপর। এমনিইতেই ইংল্যান্ডে ৩৮ সপ্তাহের লিগ খেলা হচ্ছে ৩৪ সপ্তাহে। এই লিগের জন্য আরও বাড়তি ৩৪টি ম্যাচ খেলতে হবে। যার মানে বড় ক্লাবগুলোকে স্কোয়াড বাড়াতে হবে অনেক বেশি। এর মধ্যে এফ কাপের মতো ঘরোয়া প্রতিযোগিতাও খেলতে হবে দলগুলোকে।

ফিফা, উয়েফা এবং ক্লাবগুলোর সম্মিলিত সিদ্ধান্তের পরই জানা যাবে কি হতে যাচ্ছে ভবিষ্যৎ ফুটবলের ভাগ্যে। এটা কি সাধারণের খেলা হয়েই টিকে থাকবে নাকি সমাজের উচ্চ শ্রেণীর মানুষের মনরঞ্জনের বিষয়ে পরিণত হবে তা জানতে হয়তো অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *