ক্রিকেটার হতে করেছিলেন শ্রমিকের কাজ; সেই তরুণ নিলেন আইপিএলের সেরা ক্যাচ(ভিডিও)

আইপিএল

পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচে ক্রিকেট বিশ্ব সাক্ষী হয়ে থাকল অভূতপূর্ব এক মুহূর্তের। সহজভাবে এদিন কলকাতার কাছে পাঞ্জাব হারলেও দুর্দান্ত এক ক্যাচে পুরো ম্যাচের দৃষ্টি নিজের দিকে নিয়েছেন আকরদের সাথে গেল যুব বিশ্বকাপে খেলা তরুণ রবি বিষ্ণুয়ই।


এমনি আপাত অর্থে ঘটনাবিহীন একটা ম্যাচে পাঞ্জাবের করা ১২৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২০ বল ও পাঁচ উইকেট বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে নেয় কেকেআর। তাড়াতাড়ি তিন উইকেট খুঁইয়েও অধিনায়ক ইয়ন মর্গ্যানের অপরাজিত ৪৭ ও রাহুল ত্রিপাঠীর ৪১-র সুবাদে চার ম্যাচ পরে জয় আসে নাইট শিবিরে। দু’জনে চতুর্থ উইকেটের জন্য ৬৬ রানের পার্টনারশিপ করেন।

তবে ম্যাচটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে কেকেআরের জয়ের পথে ফেরার চেয়েও অনেক বেশি করে একটি ক্যাচের জন্য। অর্শদীপ সিংয়ের বলে ইনিংসের তৃতীয় ওভারে সুনীল নারিনের এক অসামান্য ক্যাচ লুফে নেন রবি বিষ্ণোই। সেই ক্যাচ দেখে মুগ্ধ দর্শকমহল থেকে ধারাভাষ্যকার সকলেই।

সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেভিন পিটারসেন তো এই ক্যাচকে আইপিএল ইতিহাসের সেরা ক্যাচের সার্টিফিকেট অবধি দিয়ে দিয়েছেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে তাঁর বিস্ময় প্রকাশ করে পিটারসেন লেখেন, ‘সব আইপিএল টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচ। ওয়াও, …… বিষ্ণোই ’


কেকেআর শুরুতেই দু’ই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গেলে রানের গতি বাড়াতে নারিনকে ক্রিজে পাঠায়। সেইমতো বড় শট খেলতে গিয়ে ব্যাটে বলে সঠিক সংযোগ হয় না নারিনের। স্কোয়ার লেগে থাকা বিষ্ণোই তাঁর ডান দিকে ২৬ মিটার দৌড়ে গিয়ে হাওয়ায় গা ভাসিয়ে লুফে নেন তাঁর ক্যাচ। তবে দূর্ভাগ্যবশত ঠিক মিনিটের মধ্যেই সহজ দু’টি ফিল্ডিং মিস করেন এই তরুণ। ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার খেলা তার এর থেকে বড় প্রমাণ আর কী বা হতে পারে।

অথচ ক্রিকেটার হওয়ার জন্য একসময় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতেই শ্রমিকের কাজ করেছিলেন রবি বিষ্ণোই। তার বয়স তখন মাত্র ১২। পরে সেই ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতেই খেলার সুযোগ পান রাজস্থান থেকে উঠে আসা এই তরুণ স্পিনার। পরবর্তী কালে নানা স্তরে ক্রিকেট খেলে নিজের জাত চেনাতে শুরু করেন রবি। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ভারতীয় দলে সুযোগ রবির জীবনটাই পুরো পাল্টে দেয়। এক সময় ক্রিকেটার হওয়ার জন্য শ্রমিকের কাজ করেছিলেন যে রবি, সেই এখন আইপিএলের মত মেগা মঞ্চের তারকা হয়ে উঠেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *