রিয়ালের মাঠে ড্র করে ফাইনালের পথে এগিয়ে চেলসি

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে জিততে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ বা চেলসির কোন দলই। পুরো ম্যাচ জুড়ে গোছানো ফুটবল উপহার দিলো থমাস টুসেলের চেলসি। শুরুর ধাক্কা সামলে রিয়াল মাদ্রিদ ঘুরে দাঁড়াল বটে, তবে যথেষ্ট হলো না। মূল্যবান একটি অ্যাওয়ে গোল নিয়ে ফিরল ইংলিশ দলটি।

রিয়ালের ঘরের মাঠ আলফ্রেডো ডি স্টেফানো স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সেমিফাইনালের প্রথম লেগ ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়েছে। ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচের গোলে স্বাগতিকরা পিছিয়ে পড়ার পর সমতা টানেন করিম বেনজেমা।

স্প্যানিশ রাজধানীতে বৃষ্টি ভেজা মাঠে বিঘ্ন হলো ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দ। তবে এর মাঝেও আলো ছড়াল চেলসি। প্রথম মিনিট থেকে আক্রমণাত্মক খেলে গোলের উদ্দেশে মোট ১১টি শট নেয় তারা, যার পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে রিয়ালের ৯ শটের মাত্র একটি থাকে লক্ষ্যে। এই পরিসংখ্যানে ফুটে ওঠে পুরো ম্যাচের চিত্রও।

প্রতিপক্ষের সাদামাটা ফুটবলের বিপরীতে উজ্জীবিত পারফরম্যান্সে শুরুটা দারুণ করে চেলসি। প্রথম ১৫ মিনিটে একচেটিয়া আক্রমণের মাঝেই গোল আদায় করে নেয় পোর্তোকে হারিয়ে শেষ চারে ওঠা দলটি।

প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগটি তারা পায় দশম মিনিটে। তবে পুলিসিচের হেডে ছয় গজ বক্সে বল পেয়ে কাজে লাগাতে পারেননি টিমো ভেরনার। তার শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।

চার মিনিট পর দারুণ গোলে এগিয়ে যায় চেলসি। মাঝমাঠ থেকে জার্মান ডিফেন্ডার আন্টোনিও রুডিগারের উঁচু করে বাড়ানো বল অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে ডি-বক্সে নিয়ন্ত্রণে নেন পুলিসিক। এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে কাটিয়ে শট নেন যুক্তরাষ্ট্রের এই মিডফিল্ডার, বল গোললাইনে রাফায়েল ভারানের গায়ে লেগে জালে জড়ায়।

গোল খেয়ে যেন হুঁশ ফেরে শেষ আটে লিভারপুলকে হারানো রিয়ালের। ধার বাড়ে তাদের আক্রমণে। ২৩তম মিনিটে বেনজেমার দূর থেকে নেওয়া শট পোস্টের বাইরের দিকে লাগে। পাল্টা আক্রমণে ভীতি ছড়াচ্ছিল চেলসিও।

জমজমাট লড়াইয়ের ২৯তম মিনিটে সমতায় ফেরে রিয়াল। ছোট করে নেওয়া কর্নারে মার্সেলো দূরের পোস্টে ক্রস বাড়ান। লাফিয়ে হেড করেন কাসেমিরো, পরের হেডে এদের মিলিতাও খুঁজে নেন বেনজেমাকে। আর ফরাসি এই স্ট্রাইকার জটলার মধ্যে দারুণভাবে হেডে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পোস্টের দিকে না ফিরেই ডান পায়ের ভলিতে ঠিকানা খুঁজে নেন।

আসরে বেনজেমার এটি ষষ্ঠ গোল। প্রতিযোগিতাটির গোলদাতাদের তালিকায় মোট ৭১ গোল নিয়ে সাবেক রিয়াল তারকা রাউল গনজালেজের পাশে বসলেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মার্সেলোর ভুলে বিপদে পড়তে বসেছিল প্রতিযোগিতার রেকর্ড ১৩ বারের চ্যাম্পিয়নরা। ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়েও ভেরনার সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। এরপরেও মাঝে মধ্যেই তাদের ভুল পাসে নিয়ন্ত্রণ হারানো ছিল দৃষ্টিকটু।

৬৬তম মিনিটে ভিনিসিউস জুনিয়রকে তুলে আজারকে নামান কোচ। সাবেক দলের বিপক্ষে তেমন কিছুই করতে পারেননি চোট কাটিয়ে কদিন আগে ফেরা বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড।

শেষ ১৫ মিনিটে বৃষ্টির তেজ বাড়ে, কমে ফুটবলের গতি। প্রতিপক্ষের সীমানায় ভীতি ছড়াতেও পারেনি কেউ।

ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় চেলসির বিপক্ষে আগের তিনবারের দেখায়ও রিয়ালের জয় ছিল অধরা। মিলল না এবারও। কোচিং ক্যারিয়ারে থমাস টুসেলের বিপক্ষেও জয় না পাওয়ার গেরো কাটল না জিদানের।
অপেক্ষা এবার ফিরতি লড়াইয়ের। আগামী বুধবার ফাইনালে ওঠার চ্যালেঞ্জের শেষ ধাপে ফের মুখোমুখি হবে দল দুটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *