মেসির জাদুকরী দুই গোলে শিরোপার আশা বাঁচিয়ে রাখলো বার্সা

ক্লাব ফুটবল

ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে খেলতে নামলেই যেন নিজেদের হারিয়ে ফেলে বার্সেলোনা। এবারও মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে সেই মেস্টায়ায় খেই হারাচ্ছিলো কাতালানরা। ত্রাতা হয়ে আসলেন মেসি, করলেন জোড়া গোল। সেই সাথে দলকে এনে দিলেন মূল্যবান তিনটি পয়েন্ট!

আজকের ম্যাচে পয়েন্ট হারালে শিরোপার আশা আক্ষরিক অর্থে শেষ হয়ে যেতো বার্সেলোনার। এমন সমীকরণের ম্যাচে বার্সেলোনার শুরুটা হতো পারতো দারুন। কিন্তু ফ্রেংকি ডি ইয়ংয়ের ছোট পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন তরুণ মিডফিল্ডার পেদ্রি। ১০ মিনিট পর মেসির দারুণ ফ্রি কিকে ফ্লিক করেন রোনাল্ড আরাউহো, বল যায় গোলরক্ষক বরাবর।

ধীরে ধীরে গুছিয়ে ওঠা ভালেন্সিয়া ২৬তম মিনিটে প্রথম প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের পরীক্ষা নেয়। ডি-বক্সের বাইরে থেকে মিডফিল্ডার উরোস রাসিচের নিচু শট যদিও মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনকে তেমন ভাবাতে পারেনি। পাঁচ মিনিট পর মেসির ফ্রি কিক ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে বাইরে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে দারুণ এক প্রতি-আক্রমণে ওয়ান-অন-ওয়ানে গোলরক্ষক বরাবর শট নিয়ে হতাশ করেন গনসালো গেদেস। কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান টের স্টেগেন।

ওই কর্নার থেকেই এগিয়ে যায় ভালেন্সিয়া। কার্লোস সলেরের দূরের পোস্টে নেওয়া কর্নারে পেছন থেকে বিনা বাধায় ছুটে গিয়ে হেডে বল ফাঁকা জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল পাউলিস্তা। রক্ষণভাগের পাশাপাশি পোস্ট ছেড়ে যাওয়া টের স্টেগেনের দায় আছে যথেষ্ট।

সাত মিনিট পর এক ঘটনাবহুল গোলে সমতা টানেন মেসি। ভালেন্সিয়ার ডি-বক্সে তাদের ডিফেন্ডার তনি লাতো ইচ্ছাকৃতভাবে হাত দিয়ে বল ঠেকানোয় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। বার্সেলোনা অধিনায়কের দুর্বল স্পট কিক অবশ্য ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন ইয়াসপের সিলেসেন। আলগা বল পেয়ে পেদ্রির নেওয়া শট গোললাইনে প্রতিহত হয়। এরপরও বল ক্লিয়ার হয়নি, ফাঁকায় বল পেয়ে জোরালো শটে স্কোরলাইন ১-১ করেন মেসি।

৬৩তম মিনিটে এগিয়ে যায় তিন দিন আগে গ্রানাদার বিপক্ষে ঘরের মাঠে হারা বার্সেলোনা। জর্দি আলবার ক্রসে ডি ইয়ংয়ের হেড রুখে দিয়েছিলেন সিলেসেন; কিন্তু বিপদমুক্ত করতে পারেননি সাবেক বার্সেলোনা গোলরক্ষক। ছুটে গিয়ে বিনা বাধায় লক্ষ্যভেদ করেন গ্রিজমান।

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে চোখ ধাঁধানো সব ফ্রি কিকে অনেকবার প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেছেন মেসি। ৬৯তম মিনিটে দেখা মেলে আরেকটি। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে তার বাঁকানো শটে বল কাছের পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

বাকি সময়ে আর কোন গোল না হলে কষ্টার্জিত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। সেই সাথে টিকিয়ে রাখে নিজেদের শিরোপার আশাও। ৩৪ ম্যাচে ৭২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয়স্থানে আছে বার্সেলোনা। সমান পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে আছে মাদ্রিদেরই আরেকটা দল অ্যাটলেটিকো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *