ইউরোতে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড গড়ে শেষ ষোলোয় স্পেন

ইউরো ২০২০

এবারের ইউরোতে নিজেদের হারিয়ে খুঁজছিলো স্পেন। প্রথম দুই ম্যাচে নির্বিষ ড্রয়ের ওর তৃতীয় ম্যাচে এসে জ্বলে উঠলো লুইস এনরিকের দল। স্লোভাকিয়াকে বিধ্বস্ত করে সেই সাথে শেষ ষোলোয় উত্তীর্ণ হলো ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ীরা।

স্পেনের মাঠ সেভিয়ার লা কার্তুহায় বুধবার রাতে ‘ই’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডে ৫-০ গোলে জিতেছে স্পেন। একই সময়ে শুরু হওয়া অন্য ম্যাচে পোল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শীর্ষে থেকে নক আউটে সুইডেন। তাদের ঝুঁলিতে পয়েন্ট ৭। প্রথম দুই ম্যাচে ড্র করা স্পেন ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ।

স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে এই জয় স্পেনের ইতিহাসে ইউরোতে পাওয়া সর্বোচ্চ গোলের ব্যবধানে জয়। ইউরোর ইতিহাসেও প্রতিপক্ষের মাঠে এর চেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড নেই আর কোন দলের। এর আগে ২০০৪ সালে বুলগেরিয়াকেও একই ব্যবধানে পরাজিত করে সুইডেন।

প্রথম দুই ম্যাচে অনেক সুযোগ নষ্ট করে সমালোচনার মুখে পড়া আলভারো মোরাতা এদিন শুরুতেই দলকে এগিয়ে নিতে পারতেন। উল্টো দুর্বল স্পট কিকে সুযোগটা নষ্ট করেন। ডি-বক্সে কোকে ফাউলের শিকার হলে ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। জুভেন্টাস ফরোয়ার্ডের শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ফেরান গোলরক্ষক মার্তিন দুবব্রাউকা।

দ্বিতীয় রাউন্ডে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ ড্র ম্যাচেও পেনাল্টি মিস করেছিল দলটি, ব্যর্থ হয়েছিলেন জেরার্দ মরেনো। ইউরোর ইতিহাসে (টাইব্রেকার বাদে) প্রথম দল হিসেবে গ্রুপ পর্বে দুটি এবং নেদারল্যান্ডসের পর আসরে দ্বিতীয় দল হিসেবে দুটি পেনাল্টি মিস করল স্পেন। ২০০০ ইউরোয় দুটি স্পট কিকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিল ডাচরা।

১৯ ও ২০ মিনিটে আরও দুটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয় স্পেনের। গোলমুখে বলে পা লাগাতেই ব্যর্থ হন পেদ্রি ও পাবলো সারাবিয়া। চার মিনিট পর দারুণ পজিশনে ক্রস পেয়ে বলে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি মোরাতা।

এরপরই দুবব্রাউকার হাস্যকর আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে সারাবিয়ার জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ওপরে উঠে যায়। নেমে আসা বল ধরার বদলে পাঞ্চ করে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু টাইমিংয়ে হয়ে যায় বড় গড়মিল, বল চলে যায় জালে।

ইউরোর ইতিহাসে প্রথম গোলরক্ষক হিসেবে একই ম্যাচে পেনাল্টি সেভ ও আত্মঘাতী গোল করলেন দুবব্রাউকা।

বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলে খেলার পর গত মাসেই স্পেনের হয়ে খেলার অনুমতি পাওয়া লাপোর্ত। এই গোলেও কিছুটা দায় আছে দুবব্রাউকার। স্লোভাকিয়ার ডিফেন্ডাররা একটি কর্নার ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে পেদ্রির পা হয়ে ডান দিকের বাইলাইনের কাছে বল পান মরেনো। তার দিকে বেশ কিছুটা এগিয়ে গিয়েই ভুলটা করে বসেন গোলরক্ষক, ফলে মরেনোর গোলমুখে বাড়ানো বলে লাপোর্তের হেড ঠেকানোর তেমন সুযোগই পাননি তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের একাদশ মিনিটে বাঁ থেকে জর্দি আলবার পাস ডি-বক্সে মাঝ বরাবর পেয়ে নিখুঁত শটে ব্যবধান আরও বাড়ান পাবলো সারাবিয়া। আর ৬৭তম মিনিটে আগের গোলদাতার ছয় গজ বক্সে বাড়ানো বল দারুণ ফ্লিকে স্কোরলাইন ৪-০ করেন তরেস। আগের মিনিটে মোরাতার বদলি নেমে এটাই ছিল বলে তার প্রথম ছোঁয়া।

আর ৭১তম মিনিটে জটলার মধ্যে গোলমুখে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে বল ঠেলে দেন সফরকারী মিডফিল্ডার কুচকা। বাকি সময়েও চাপ ধরে রেখে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া জয়ের আনন্দে মাঠ ছাড়ে স্পেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *