নেইমার ঝলকে পেরুকে হারিয়ে ফাইনালে ব্রাজিল

কোপা আমেরিকা

প্রথমার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিলো ব্রাজিল। সেই সাথে আদায় করে নিলো আরও একটি গোল। সেই গোলের লিড ধরে রাখলো দ্বিতীয়ার্ধেও। সুবাদে প্রথম দল হিসেবে কোপার ফাইনালে উত্তীর্ণ হলো সেলেকাওরা।

প্রথমার্ধের ৩৫তম মিনিটে লুকাস পাকেতার গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। আগে পরে বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেন নেইমার-রিচার্লিসন-এভারটনরা।

প্রথমার্ধে গুছিয়ে উঠতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ লড়াই করে পেরু। কিন্তু স্বাগতিকদের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারে না গত আসরের রানার্সআপরা। তাদের হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে তিতের দল।

ঘরের মাঠের টানা দ্বিতীয় ফাইনালে উত্তীর্ণ হওয়ার পথে আক্রমণাত্মক শুরু করে ব্রাজিল। অষ্টম মিনিটে চমৎকার একটি সুযোগও পায় তারা। ডি-বক্সে পাকেতার চমৎকার পাস ধরে রিচার্লিসন খুঁজে নেন নেইমারকে। পিএসজি ফরোয়ার্ডের শট একটুর জন্য লক্ষ্যে থাকেনি।

পাঁচ মিনিট পর বুলেট গতির ফ্রি-কিকে চেষ্টা করেন ক্যাসেমিরো। সোজা আসা বল ঠিক মতো গ্লাভসে জমাতে পারেননি গোলরক্ষক। ফিরতি বলে সুযোগ নিতে পারেননি এভারটন।

১৯তম মিনিটে আবার দূরপাল্লার শটে চেষ্টা করেন ক্যাসেমিরো। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক। পরমুহূর্তে রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডারের দারুণ ফ্লিকে বল ধরে পাকেতা বাড়ান ছয় গজ বক্সের মুখে, সেখানে নেইমারের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকানোর পর রিচার্লিসনের ফিরতি শটও রুখে দেন গোলরক্ষক।

৩৫তম মিনিটে আর ব্রাজিলকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি পেরু। মাঝ মাঠ থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে যান নেইমার। পায়ের কারিকুরিতে সঙ্গে লেগে থাকা তিন খেলোয়াড়ের মাঝ দিয়ে খুঁজে নেন অরক্ষিত পাকেতাকে। বাকি কাজ টুকু অনায়াসে সারেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণে মনোযোগ দেয় পেরু। প্রতি আক্রমণের পথ বেছে নেয় ব্রাজিল। ৫০তম মিনিটে সমতা ফেরানোর ভালো একটা সুযোগ পায় পেরু। কিন্তু এডারসন ছিলেন পোস্টের নিচে বিশ্বস্ত দেয়াল হয়ে।

নিজেদের অর্ধ থেকে ইয়োশিমার ইয়োতুনের বাড়ানো বল ধরে ডি বক্স থেকে শট নেন জানলুকা লাপাদুলা। ঝাঁপিয়ে কোনোমতে ফেরান এডারসন। ফিরতি বল ক্লিয়ার করেন ব্রাজিলের এক খেলোয়াড়।

৬১তম মিনিটে দূরপাল্লার শটে আবারও এডারসনের পরীক্ষা নেন রাসিয়েল গার্সিয়া। ঝাঁপিয়ে পড়ে এবারও জাল অক্ষত রাখেন ম্যানচেস্টার সিটি গোলরক্ষক।

৮১তম মিনিটে সমতা ফেরানোর আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া করে পেরু। ইয়োতুনের ফ্রি কিকে সবার উঁচুতে লাফিয়ে হেড করেন আলেকসান্দার কায়েন্স। কিন্তু বল ছিল না লক্ষ্যে। বেঁচে যায় ব্রাজিল।

বাকি সময়ে আর তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি পেরু। জাল অক্ষত রেখে শিরোপা ধরে রাখার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ফাইনালে তারা খেলবে আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়ার মধ্যে বিজয়ীর সঙ্গে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *