মাহমুদউল্লাহ লিখিত দিয়েছে, সে টেস্ট খেলবে: পাপন

বাংলাদেশ ক্রিকেট

হারেরে টেস্টের তৃতীয় দিনে পুরো দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। দেশের ক্রিকেটের আকাশটা তখনও ঝলমলে। কিন্তু হঠাৎই এক খবরে যেন কালো মেঘে ঢেকে গেল। গুঞ্জন টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন হারেরে টেস্টে বাংলাদেশের নায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। গণমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে এই খবর।


মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে এ রকম সংবাদে বিভ্রান্ত খোদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানও। তবে মাহমুদউল্লাহ যে ড্রেসিংরুমে এ রকম কিছু বলেছেন, সে আভাস আছে তাঁর কথায়। বিসিবি সভাপতি মুঠোফোন দৈনিক প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আমাকে অফিশিয়ালি কেউ কিছু বলেননি। তবে একজন ফোন করে জানিয়েছে, এই টেস্টের পর আর সে (মাহমুদউল্লাহ) টেস্ট খেলতে চায় না। ড্রেসিংরুমে নাকি সবাইকে সে এটা বলেছে। কিন্তু আমার কাছে এটা খুবই অস্বাভাবিক লেগেছে। খেলা তো এখনো শেষ হয়নি!’

নাজমুল হাসানের কাছে বিষয়টা আরও বেশি অস্বাভাবিক লাগছে। কারণ, জিম্বাবুয়ে সফরে যাওয়ার আগে মাহমুদউল্লাহ লিখিতভাবেই বিসিবিকে জানিয়ে গেছেন তিনি তিন সংস্করণের ক্রিকেটে খেলতে চান। নাজমুল হাসান বলেছেন, ‘আমরা তো এবার ওদের সবার কাছ থেকেই লিখিত নিয়েছি ভবিষ্যতে তারা কে কোন ফরম্যাটে খেলতে চায়। জিম্বাবুয়ে যাওয়ার চার–পাঁচ দিন আগে এটা নেওয়া হয়েছে। রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) লিখেছে সে তিন ফরম্যাটেই খেলতে চায়। টেস্টের ক্ষেত্রে লিখেছে, সুযোগ পেলে আমি খেলতে চাই। সে জন্যই তাকে টেস্টে নেওয়া হলো।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘আমি তাকে আমার বাসায় দুবার ডেকে জিজ্ঞেস করেছি এবং সে আমাকে নিশ্চিত করেছে সে টেস্ট খেলতে চায়। আমি তাকে জিজ্ঞস করেছি, প্রয়োজনে তুমি বল করবে তো? সে বলেছে, সে বলও করবে। ও এখন অবসরের কথা বলেছে, এটা তাই আমার কাছে একেবারেই আশ্চর্য লাগছে।’

মাহমুদউল্লাহ যদি সত্যিই এ রকম কোনো কথা ড্রেসিংরুমে বলে থাকেন, সেটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন নাজমুল হাসান, ‘আমার ধারণা, সে হয়তো আবেগের বশে বলেছে। নইলে বোর্ডকে লিখিত দেওয়ার পর টেস্টের মধ্যে এভাবে বলার কথা নয়। টেস্টের মাঝখানে এটা যদি সে করে থাকে, তাহলে সেটার খুব নেতিবাচক প্রভাব পড়বে খেলোয়াড়দের ওপর। এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’ বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘কেউ না খেললে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সিরিজের মাঝখানে এসব বলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো মানে হয় না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *