ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার পাওয়া সেরা পাঁচ সাফল্য

ফুটবল

টিভিতে দেখানো ডিজিটাল স্কোর বোর্ড অনুযায়ী দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত ৫ মিনিট শেষ হতে তখনো কয়েক সেকেন্ড বাকি আছে। কিন্তু রেফারির বাঁশির আওয়াজ বলে দিলো, ম্যাচ তার কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তে চলে এসেছে। ‘লা আলবিসেলেস্তেদের’ কর্ণধার মেসি তখন মাঠের এক পাশে হাঁটু গেড়ে বসে মুখ লুকিয়ে ফেলেছেন। আকাশী-সাদা জার্সিতে সাধের আন্তর্জাতিক শিরোপা যে এতো বছরের লুকোচুরি শেষে তার হাতে ধরা দিলো। আজকের পর থেকে কেউ তাকে এই বলে বিরক্ত করতে পারবে না যে, ‘দেশের জন্য কি অর্জন করতে পেরেছো তুমি?’ আর্জেন্টিনা অবশেষে বিশ্বাঙ্গনে চেনা রূপে ফিরলো। আর সেটাও কি দারুণভাবে। ২০১৪ সালে যে মাটিতে বিশ্বজয়ের খুব কাছাকাছি গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছিলো, ৭ বছর পর সেই ব্রাজিলেই আমেরিকা জয়ের বীরত্ব গাঁথা রচনা করলো লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। সত্যি বলতে কোপা আমেরিকার এবারের আসরটা মেসিদের জন্য ছিলো স্বপ্নের মতো। সেখান থেকে তারা মোটা দাগে যে পাঁচটি সাফল্য চোখে পড়েছে, তা নিয়েই থাকছে এবারের প্রতিবেদন।

২৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান


১৯৯৩ সালের পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছে লা আলবিসেলেস্তারা। প্রায় তিন দশক আগের সেই আন্তর্জাতিক শিরোপাটাও এসেছিলো এই কোপা আমেরিকার মঞ্চ থেকেই। এরমধ্যে ২০০৪, ২০০৭, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে ফাইনালে উঠলেও ট্রফিটা নিজেদের করে নিতে পারেনি লাতিন আমেরিকার দেশটি।

মেসির প্রথম মেজর আন্তর্জাতিক শিরোপা

ক্লাব ফুটবলে বার্সালোনার হয়ে হেন কোনো রেকর্ড বাকি নেই, যেটা মেসি অর্জন করতে পারেননি। ৬ বারের ব্যালন ডি অর জয়ী মেসির ক্যারিয়ারে আক্ষেপ বলতে ছিলো, নিজের দেশ আর্জেন্টিনাকে বড় কোনো সাফল্য এনে দিতে না পারা। ২০১৪ বিশ্বকাপ কিংবা ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে নিয়ে গেলেও শিরোপার স্বাদ দিতে পারেননি। এরমধ্যে ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে পেনাল্টি মিস করে অভিমানে রীতিমতো অবসরের ঘোষণাই দিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। মেসির এই অদৃষ্টের পরিহাসে আর্জেন্টাইনরা তো বটেই, বিশ্বের প্রায় সকল ফুটবল ভক্তদের হৃদয় কেঁদে উঠেছিলো। কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের মাধ্যমে মেসির ১৬ বছরের ক্যারিয়ারের এই ঘাটতি পূরণ হলো।

কোপা আমেরিকায় সর্বাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড

রোববারের ম্যাচটির আগে কোপা আমেরিকায় সবচেয়ে সফল দল ছিলো উরুগুয়ে। মোট ১৫ বার শিরোপা জয়ের রেকর্ড ছিলো তাদের। কিন্তু এর আগে ১৪টি ট্রফি শোকেসে রাখা আর্জেন্টিনার অর্জনের খাতায় এবারে আরো একটি ট্রফি যোগ হওয়ায়, উরুগুয়ের সঙ্গে প্রথম স্থানটি ভাগাভাগি করে নিয়েছে মেসি-ম্যারাডোনার দেশ। অন্যদিকে ৯টি শিরোপা নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সদ্য শেষ হওয়া আসরের রানার্সআপ ব্রাজিল।

নতুন ফেনোমেননের উপখ্যান

‘ফেনোমেনন’ শব্দটি শুনলেই ফুটবল ভক্তদের অন্তরের আয়নায় ভেসে ওঠে ব্রাজিলের ৯ নম্বর জার্সি গায়ে রোনালদোর প্রতিপক্ষকে তছনছ করার দৃশ্য। কিন্তু কোপার সেমিতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে বীরত্বসূচক জয় এনে দেওয়ার পরে স্বদেশি গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকেও ফেনোমেনন উপাধিটি দেন মেসি। অথচ মাত্র কয়েক মাস আগেও মার্টিনেজকে কেউ চিনতোই না। আর্সেনালের দ্বিতীয় গোলরক্ষক মার্টিনেজের ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট আসে প্রধান গোলকিপার বার্নড লেনোর ইনজুরির পর। এরপর প্রিমিয়ার লিগে একের পর এক চোখ ধাঁধানো পারফর্ম্যান্স দিয়ে জাতীয় দলেও জায়গা তৈরি করে নেন তিনি। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর টুর্নামেন্টের সেরা গোলকিপারও নির্বাচিত হয়েছেন মার্টিনেজ।

এক টুর্নামেন্টে সর্বাধিক অ্যাসিস্টের রেকর্ড

আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি এই টুর্নামেন্টের ৭ ম্যাচে মোট ৫ বার অ্যাসিস্ট করেছেন। কোপা আমেরিকার এক মৌসুমে যেটি ছিলো সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *