নাজেহাল বাংলাদেশকে ১২ বছর পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জেতালেন সাকিব

বাংলাদেশ ক্রিকেট

অনেকদিন থেকেই সাকিব আল হাসানের ব্যাটে ছিল রানখরা। প্রতিযোগিতামূলক কোন ক্রিকেটেই রান আসছিল না। চরম এই দুঃসময় সাকিব কাটালেন দলের ভীষণ বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে। হারের শঙ্কায় পড়া দলকে টেনে নিলেন একাই। ২০০৯ সালের পর জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।


রোববার হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে বাংলাদেশ জিতেছে ৩ উইকেটে। আগে ব্যাট করে ২৪০ রান করেছিল জিম্বাবুয়ে। সহজ এই লক্ষ্য পেরুতে এক পর্যায়ে ৭৫ রানে ৪ উইকেট হারানো দল পড়ে যায় বিপদে। ১৭৩ রানে ৭ উইকেট পড়ে গেলে বিপদ বেড়েছিল। সবটা সাকিব সামলালেন দারুণ মুন্সিয়ানায়। শেষ পর্যন্ত ৫ বল আগে জিম্বাবুয়ের রান পেরিয়ে এক ম্যাচ আগে সিরিজ নিশ্চিত করেছে সফরকারীরা।

অল্পের জন্য সেঞ্চুরি না পেলেও বাংলাদেশের সফলতম ক্রিকেটার অপরাজিত থাকেন ৯৬ রানে। ৮ম উইকেটে তার সঙ্গে ম্যাচ জেতানো ৬৯ রানের জুটি গড়া মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন অপরাজিত থাকেন ২৮ রানে।

সহজ রান তাড়ায় নেমে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল-লিটন দাস আনেন অতি সতর্ক শুরু। থিতু হতে দুজনেই নেন বাড়তি সময়।

তামিম একবার ক্যাচ দিয়ে বাঁচার পর দিচ্ছিলেন ভাল কিছুর আভাস। কিন্তু ১০ ওভারে দলের ৩৯ রানে বিদায় হয় তার। ৩৪ বলে ২০ করা বাংলাদেশ অধিনায়কের উইকেট পেয়েছেন লুক জঙ্গুই। কিন্তু বড় কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন সিকান্দার রাজা। পয়েন্টে ঝাঁপিয়ে চোখ ধাঁধানো ক্যাচ নেন তিনি।

সময় নিয়ে খেলছিলেন লিটন। টেন্ডাই চাতারাকে টানা তিন চার মেরে খোলস থেকে বেরিয়ে আসার আভাস দিচ্ছিলেন। কিন্তু হয়নি। দুবার চোট পেয়ে মনোযোগ যেন একটু সরে যায়।

রিচার্ড এনগারাভার বলে পুল করতে গিয়ে সোজা উঠিয়ে দেন ক্যাচ। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ানের ব্যাট থেকে এদিন আসে ৩৩ বলে ২১।

চারে নেমে মোহাম্মদ মিঠুন আগের ম্যাচের মতো এদিনও সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। জঙ্গুইর অনেক বাইরের বল তাড়া করে কাভারে দেন ক্যাচ। ৫০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে হঠাৎ পথ হারানো বাংলাদেশের হাল ধরেন সাকিব। ক্রিজে এসে প্রথমে ধুঁকছিলেন। লম্বা সময় রান না পাওয়ায় চাপেও ছিলেন তিনি।

চতুর্থ উইকেটে মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। ২৫ রানের জুটি থেমেছে দুর্ভাগ্যজনক রান আউটে। এনগারাভার ওয়াইড বল কিপার ঠিকমতো ধরতে পারেননি। সুযোগে রান নিতে গিয়ে সরাসরি থ্রোতে কাটা পড়েন মাত্র ৫ রান করা মোসাদ্দেক।

৭৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন যেন ব্যাকফুটেই বাংলাদেশ। এই অবস্থা সরে যায় মাহমুদউল্লাহ সাকিবের সঙ্গে জমে যাওয়ায়। সহজেই রান বের করতে পারছিলেন তারা। জিম্বাবুয়ের বোলাররাও চাপ রাখতে পারছিলেন না। স্পিনারদের আক্রমনে আনায় আরও সহজ হয়ে যায় দুজনের জন্য।

৫৫ রানের এই জুটি পরে দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে থামিয়েছেন ব্লেসিং মুজারাবানি। তার বাড়তি বাউন্সের বল কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা দেন ৩৫ বলে ২৬ করা মাহমুদউল্লাহ।

তবে সাকিব ক্রমেই চলে আসেন নিজের সেরা অবস্থায়। ৫৯ বলে তুলে নেন ফিফটি। মেহেদী হাসান মিরাজকে পাঠানো হয়েছিল আফিফ হোসেনের আগে। তিনি সেই দাম দিতে পারেননি। ১৫ বলে ৬ রান করে বাজে শটে আত্মাহুতি দিয়ে ফেরেন। আফিফ পরে সাকিবের সঙ্গে জুটি বেধেছিলেন।

রানরেটের চাপ ছিল না। এক, দুই করে নিলেই হতো। এগুচ্ছিলেনও এমন করেই। তবে আচমকা রাজার বলে বেরিয়ে নিজের উইকেট বিলিয়ে স্টাম্পড হন ২৩ বলে ১৫ করে। ১৭৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফের কিছুটা শঙ্কা জাগে।

কিন্তু লম্বা ব্যাটিং লাইনআপের ফল পাওয়া যায় আরেকবার। সাইফুদ্দিন দাঁড়িয়ে যান সাকিবের সঙ্গে। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তারাই শেষ করেন খেলা।

প্রতিপক্ষের চাপ সামালদের স্থির মাথায়। একদম তাড়াহুড়ো না করে সাকিব খেলা নিয়ে যান শেষ দিকে। তাতে ম্যাচের সমীকরণ সহজ হয়ে যাওয়ায় বাগে পেয়েও বাংলাদেশকে হারাতে পারেনি স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *