ক্রিকেট বিশ্বের সর্বোচ্চ লম্বা ১০ ক্রিকেটার ও তাদের অবিশ্বাস্য উচ্চতা

ফিচার

বাস্কেটবল খেলায় সর্বনিম্ন উচ্চতা ৬ ফিট থাকতে হয়। এছাড়া আরো কিছু খেলাতেও উচ্চতা নিয়ে নিয়মকানুন আছে। কিন্তু অনেক খেলাধুলাতেই উচ্চতা কোনো ব্যাপার না। ক্রিকেটেও উচ্চতা নিয়ে কিছু নেই।

তারপরেও কিছু ক্রিকেটার উচ্চতা দিয়েই নিজেকে চিনিয়েছেন আলাদাভাবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা কয়েকজন ক্রিকেটার আছেন যারা নিজেদের উচ্চতার সাথে পারফর্মেন্স গ্রাফও উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। অন্যদিকে কয়েকজনের নিজেদের উচ্চতা ভালো হলেও পারফরমেন্স গ্রাফের উচ্চতা ভালো করতে পারেননি। লম্বাদের মধ্যে বেশিরভাগই পেস বোলার। আজ আমাদের বিশেষ আয়োজন ক্রিকেট বিশ্বের এই সবচেয়ে লম্বা ক্রিকেটারদের নিয়ে।

১। মোহাম্মদ ইরফান (পাকিস্তান):
উচ্চতা ৭ ফুট ১ ইঞ্চি (২১৬ সে.মি)

ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা খেলোয়াড়ের নাম মোহাম্মদ ইরফান। যার উচ্চতা ৭ ফুট ১ ইঞ্চি। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেক ঘটে। দুটি একদিনের ম্যাচ খেলার পর সে জাতীয় দল থেকে ছিটকে যায়। এরপর ২০১২-১৩ মৌসুমে পাকিস্তানের বিপক্ষে আবার ফিরে আসেন। এখন সে আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্ক ফাস্ট বোলার। যিনি নিয়মিত ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন।

২। জোয়েল গার্নার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ):
উচ্চতা ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি (২০৩ সে.মি)

জোয়েল গার্নার বার্বাডোজের ‘বিগ বার্ড’ নামে পরিচিত। সত্তর ও আশির দশকে বল হাতে বেশ দাপট দেখিয়েছেন এই গতি তারকা। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা বোলারদের অন্যতম ছিলেন গার্নার। তিনি, মাইকেল হোল্ডিং, এন্ডি রবার্টস, কলিন ক্রফট এবং পরবর্তিতে ম্যালকম মার্শাল এর মত ফাস্ট বোলারদের সাথে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল এমন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল যে টানা ১৫ বছর তারা কোন টেস্ট সিরিজ হারেনি। ৫৮ টেস্টে তিনি ২৫৯টি উইকেট নিয়েছেন মাত্র ২০.৯৮ গড়ে, যা টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলিং পরিসংখ্যান।
সিমীত ওভারের ক্রিকেটে তিনি তার উচ্চতাকে ব্যাবহার করে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন (৯৮ ম্যাচে ১৪৬ উইকেট ৩.০৯ ইকোনমি রেটে)। ইয়র্কার, বাড়তি বাউন্স আর সুইংয়ের মিশেলে তার বল খেলা ব্যাটসম্যানদের জন্য ছিল অনেক কষ্টসাধ্য।

৩। ব্রুস রিড (অস্ট্রেলিয়া):
উচ্চতা ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি (২০৩ সে.মি)

জোয়েল গার্নারের সমান উচ্চতার ছিলেন তিনি। বামহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে সহজাত সুইং করতে দক্ষ ছিলেন। তার বিরাট উচ্চতা বলের নিখুঁত লক্ষ্যে আঘাত হানতে সহযোগিতা করেছে। প্রায়শঃই তিনি আঘাতে জর্জরিত থাকতেন ও খুব কম সময়ই পরিপূর্ণভাবে সুস্থদেহে মাঠে নামতেন। তারপরও তিনি ১৯৯০-৯১ মৌসুমে অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অংশগ্রহণ করে পাঁচ টেস্টে ২৭ উইকেট দখল করেছিলেন।

৪। পিটার জর্জ (অস্ট্রেলিয়া):
উচ্চতা ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি (২০৩ সে.মি)

পিটার রবার্ট জর্জ ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটার। ডানহাতি ফাস্ট মিডিয়াম বোলার। জর্জ তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেন সাউদার্ন রেডব্যাকসের হয়ে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাত্র একটি টেস্ট খেলেছিলেন। ৬ ফুট ৮ ইঞ্চির জর্জ ছিলেন টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম লম্বা খেলোয়াড়। অস্ট্রেলিয়ার আরেক ক্রিকেটার ব্রুস রিডের সমান উচ্চতা ছিল তার।

৫। বয়েড র‌্যানকিন (ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড):
উচ্চতা ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি (২০৩ সে.মি)

উইলিয়াম বয়েড র‌্যানকিন নর্দান আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেটার। তিনি ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন। তিনি ছিলেন ডানহাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলার। ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি লম্বা এই ক্রিকেটার তার বলে স্বতন্ত্রসূচক বাউন্স দিতে পারতেন। উচ্চতার কারণে তিনি প্রচুর বাউন্স দিতে পারতেন। ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অভিষেক হয় তার। এরপর ২০১৩-১৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজেও স্কোয়াডে ছিলেন।

৬। ক্রিস ট্রেমলেট (ইংল্যান্ড):
উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি (২০১ সে.মি)

ইংল্যান্ডের এই ফাস্ট বোলার ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম লম্বা খেলোয়াড়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার সুখ্যাতি রয়েছে ট্রেমলেটের। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে তার অভিষেক হয়েছিল। ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে তিনি বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। কিন্তু ইনজুরির কারণে ইংল্যান্ড দলে নিয়মিত হয়ে ওঠা হয়নি তার। ২০১০-১১ মৌসুমের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজ জয়ের সাক্ষী হয়েছিলেন ক্রিস ট্রেমলেট।

৭। স্টিভেন ফিন (ইংল্যান্ড):
উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি (২০১ সে.মি)

স্টিভেন ফিন একজন ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও ফাস্ট মিডিয়াম বোলার। মাত্র ১৬ বছর বয়সে মিডেলসেক্সের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার অভিষেক হয়। ২০১০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের হয়ে তার অভিষেক হয়। লম্বা এই বোলার তার বলে অতিরিক্ত বাউন্স সঞ্চার করতে পারেন। যা ব্যাটসম্যানদের বেশ সমস্যায় ফেলে। ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ও বিশ্বের পঞ্চম লম্বা খেলোয়াড়।

৮। কার্টলি অ্যাম্ব্রোস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ):
উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি (২০১ সে.মি)

ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই জেন্টেল জায়ান্টের উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি। উচ্চতায় গার্নারের চেয়ে সামান্য খাটো তিনি। আশির দশকে তিনি ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অন্যতম প্রভাব বিস্তারকারী বোলার। এন্টিগুয়ার এই বোলার দারুণ ইয়র্কার দিতে পারতেন। পাশাপাশি অসম্ভব স্লোগ। যার ফলে তিনি ৬৩০টি আন্তর্জাতিক উইকেট পেয়েছিলেন। যার ৪০৫টিই পেয়েছেন টেস্টে। ১৯৯২ সালে তিনি উইজডেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছিলেন। অবসর নেওয়ার পর তিনি আইসিসির হল অব ফেমে স্থান পান।

৯। সুলেমান বেন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ):
উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি (২০১ সে.মি)

ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ক্রিকেটার বার্বাডোজের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন। ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি লম্বা এই ক্রিকেটার ক্যারিবিয়ানদের জার্সি গায়ে ১৭টি টেস্ট, ২৫টি ওয়ানডে ও ১৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা অন্যতম লম্বা ক্রিকেটার তিনি। ক্রিকেট ইতিহাসে তিনিই সবচেয়ে বেশি লম্বা স্পিনার।

১০। জ্যাসন হোল্ডার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ):
উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি (২০১ সে.মি)

ওয়েস্ট ইন্ডিজের অন্যতম লম্বা এই ক্রিকেটারের অভিষেক হয় ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। অভিষেকের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আইপিএলে খেলার সুযোগ পান। ২০১৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়। গেল বিশ্বকাপে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

এছাড়াও এই তালিকায় আরো যাদেরকে আমরা রাখতে পারি একনজরে…

# টম মুডি (অস্ট্রেলিয়া) : উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি (২০১ সে.মি)

# ডেভিড লার্টার (স্কটল্যান্ড) : উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি (২০১ সে.মি)

# পিটার ফুলটন (নিউজিল্যান্ড) : উচ্চতা ৬ ফুট ৬.৭৫ ইঞ্চি (১৯৯ সে.মি)

# টনি গ্রেইগ (ইংল্যান্ড) : উচ্চতা ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি (১৯৮ সে.মি)

# কোর্টনি ওয়ালশ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) : উচ্চতা ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি (১৯৮ সে.মি)

# জ্যাকোব ওরাম (নিউজিল্যান্ড) : উচ্চতা ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি (১৯৮ সে.মি)

# মর্নে মরকেল (দক্ষিণ আফ্রিকা) : উচ্চতা ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি (১৯৮ সে.মি)।

/স্পোর্টসজোন-টোয়েন্টিফোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *