বর্তমান সময়ের সেরা পাঁচ ইয়র্কার মাস্টার; আছেন এক বাংলাদেশি

ফিচার বাংলাদেশ ক্রিকেট

ছোট্ট ফর্ম্যাটগুলোর আগমনের পর ব্যাটসম্যানরা যেমন ধুমধারাক্কা ক্রিকেট খেলতে শুরু করেছিলেন, তেমনি বোলারদেরকেও তখন নতুন নতুন অস্ত্রের উদ্ভাবন করতে হয়েছিল। এদের মধ্যে ইয়র্কার একটি অন্যতম অস্ত্র যা কিনা যুগের পর যুগ ধরে ব্যাটসম্যানকে চাপের মুখে ফেলতে ব্যবহার করে আসা হচ্ছে। ইয়র্কার বলগুলো খেলা যেমন কঠিন, তেমনি একদম লাইন-লেন্থ ঠিক রেখে এরকম বল ছোঁড়াটাও বেশ কঠিন। এখানে সামান্যতম ভুল হলেই বলটি রসগোল্লার মতো একটি ফুলটসে পরিণত হবে এবং ব্যাটসম্যানও সেটাকে সোজা সীমানার বাইরে উড়িয়ে দিবেন। গত শতাব্দীতে যেমন ওয়াকার ইউনুস, কোর্টনি ওয়ালশ এবং ইমরান খানের মতো পেসাররা দারুণ সব ইয়ার্কার করে ব্যাটসম্যানদের নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছিলেন, তেমনি বর্তমান প্রজন্মের পেসাররাও তাঁদের উত্তরসূরী হিসেবে এই ঐতিহ্যকে এখনো ধরে রেখেছেন এবং প্রতিনিয়তই ব্যাটসম্যানদের ওপর এই অস্ত্র প্রয়োগ করছেন। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা এই প্রজন্মের তেমনি সেরা পাঁচ ইয়র্কার মাস্টারদের সম্পর্কে আলোচনা করবো।

৫ | জাসপ্রীত বুমরাহ

ভারতীয় এই বোলার ডেথ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করার কারণে খুব অল্পসময়ের মধ্যেই বেশ নাম কুঁড়িয়েছেন। অদ্ভুত ধাঁচের বোলিং একশনের পাশাপাশি তার বোলিংয়ে বেশ বৈচিত্রতাও লক্ষ্য করা যায়। বিশেষত যে সময়টায় ব্যাটসম্যান প্রতিটি বলেই রান তুলতে চান, তখনো তিনি ঠান্ডা মাথায় সঠিক জায়গায় বল ফেলে ব্যাটসম্যানকে ঠিকই আটকে ফেলেন। দ্রুতগতির ইয়র্কার ছাড়াও তিনি ধীর গতির ইনসুইং ইয়র্কারও করতে পারেন।

৪ | মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন

যাঁরা নিয়মিত বাংলাদেশের খেলা দেখেন, তাঁরা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন যে ইদানিং সাইফুদ্দিনও বেশ দারুণ বোলিং করছেন। বিশেষত, সাইফুদ্দিনকে এখন দারুণ সব মুহূর্তে ইয়র্কার বোলিং করতে দেখা যাচ্ছে। বিশ্বকাপে কোহলিকে করা তাঁর দুর্দান্ত ইয়র্কারের কথা কেই বা ভুলতে পারে। আর একই বিশ্বকাপে ব্রাভোকে তিনি যে ইয়র্কার দিয়ে আউট করেছেন, সেটিকে আইসিসি গত আসরের সেরা ইয়র্কারগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এভাবেই তরুণ এই তারকা ক্রমেই নিজেকে একজন যোগ্য পেস অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে তুলছেন।

https://youtu.be/F0_aypvtW8Y

৩ | ট্রেন্ট বোল্ট

নিউজিল্যান্ডের এই পেসার বর্তমান বিশ্বের সেরা সুইং বোলারদের একজন। তাছাড়া তাঁর অস্ত্রাগারে রয়েছে মারাত্নক ইন সুইং ইয়র্কার, যেগুলোর গতিবেগ ঘন্টায় প্রায় ১৪০-১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়। এতো গতিসম্পন্ন ইয়র্কার সামলানো যেকোনো পাকা ব্যাটসম্যানের পক্ষেই কঠিন ব্যাপার৷ বিশ্বকাপে তিনি কোয়েন্টন ডি কককে যে ইয়র্কার বলটি করেছিলেন, সেটিতে স্ট্যাম্প মাটি থেকে খুলে গিয়ে অনেকটা দূরে গিয়ে আছড়ে পড়েছিল। পরিসংখ্যান বলছে, অভিষেকের পর থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই গতিদানব মোট ২৩৩টি ইয়র্কার বল করেছেন।

২ | লাসিথ মালিঙ্গা

শ্রীলঙ্কান এই তারকা ম্যাচের যেকোনো মুহূর্তেই ইয়র্কার করতে ভালোবাসেন। তাঁর একদল ভক্ত তাঁকে প্রায়ই ‘ইয়র্কারের রাজা’ বলে ডাকেন। ৩৬ বছর বয়সী মালিঙ্গা বর্তমানে তাঁর ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে উপনিত হয়েও নিজের বোলিংয়ের ওপর এখনো ঠিক আগের মতোই নিয়ন্ত্রণ রেখেছেন। তাঁর অদ্ভুত বোলিং একশনের পাশাপাশি তাঁর কাছে রয়েছে ইন সুইং ইয়র্কারের মতো
গোপন অস্ত্র। আরো ভয়ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে, মালিঙ্গা দুইদিকেই ইন সুইং বল করতে পারেন। কোনো ব্যাটসম্যান যদি একবার মালিঙ্গার ইয়র্কার বল মিস করে ফেলেন, তবে তাঁকে নিশ্চিতভাবে ড্রেসিংরুমে ফিরে যেতে হবে। গতবছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের একটি ম্যাচে তিনি টানা চার বলে চারটি উইকেট শিকার করেন। এরমধ্যে তিনটি বলই ছিল ইয়র্কার। তিনিই ক্রিকেট ইতিহাসের একমাত্র বোলার যাঁর এমন কীর্তি রয়েছে। প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে শুরু করে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই লঙ্কান তারকা মোট ৮৭২টি ইয়র্কার বল করেছেন৷ পরিসংখ্যান তাঁকে দিচ্ছে এপ্রজন্মের দ্বিতীয় সেরা পেসারের মর্যাদা।

১ | মিচেল স্টার্ক

একবার ভাবুন তো, ছয় ফুট ছয় ইঞ্চির কোনো বোলার আপনাকে ১৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টার গতিতে একের পর এক ইয়র্কার বোলিং করে যাচ্ছেন। ব্যাপারটি নিশ্চয়ই বেশ ভয়ঙ্কর। কিন্তু এই ভয়ঙ্কর ব্যাপারটাই অস্ট্রেলিয়ান বাঁ হাতি পেসার মিচেল স্টার্কের কাছে স্রেফ ছেলেখেলা মাত্র। দানবীয় উচ্চতা তাঁকে এমন শক্তিশালী করে তুলেছে যে তিনি ওভারের ৬টি বলে ৬টি ইয়র্কার করার সামর্থ্য রাখেন। গত দুই বিশ্বকাপে তাঁর মোট উইকেট শিকার সংখ্যা যথাক্রমে ২২ ও ২৭। দুইবারই তিনি টানা বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলার হয়েছেন।

গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি মোট ৩৩০টি ইয়র্কার বল করেছিলেন। সবকিছু ঠিক থাকলে, মালিঙ্গার পরে তিনিই হয়তো পরবর্তি ইয়র্কার সম্রাট হবেন। অবশ্যই তাঁকে বর্তমান সময়ের সেরা ইয়র্কার মাস্টার মানতে হবে, কিন্তু তাঁকেও পরবর্তিতে আরো ভালোকিছু করতে পরিশ্রমের মাধ্যমে ইনজুরির ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *